নবরাত্রির জমজমাট কেনাকাটায় ইতিহাস! নারীদের শপিং ট্রেন্ডে ঘুরছে হাজার কোটি টাকার উৎসবের অর্থনীতি

উৎসবের আলোয় ঝলমল করছে সারা দেশ। তবে এবারের উৎসবের মরসুমে সবচেয়ে বড় চমক এনেছে ভারতীয় নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও কেনাকাটার বদলে যাওয়া রূপরেখা। দিল্লির বৈশালী কিংবা ভোপালের রিধিমার মতো বহু নারীর উদ্যোগ ও শপিং ভাবনায় এখন নতুন মোড় এসেছে। বৈশালী এবার বাজার থেকে কৃত্রিম সাজসজ্জার জিনিস না কিনে স্থানীয় নারী কারিগরদের কাছ থেকে উপাদান কিনে নিজেই ঘর সাজাচ্ছেন, যা নারী কারিগরদের উপার্জনের বিরাট সুযোগ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, ডিজিটাল অ্যাপস ও সোশ্যাল কমার্সের ওপর ভর করে এথনিক ফ্যাশন ব্যবসায়ী রিধিমার নবরাত্রির অর্ডার গত বছরের তুলনায় একলফেই ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘দ্য মার্কেটার্স গাইড টু ইন্ডিয়াস ফেস্টিভ সিজন’ শীর্ষক ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৭৭% ভারতীয় ক্রেতা গত বছরের তুলনায় তাদের উৎসবের বাজেট বাড়িয়েছেন এবং প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন গ্রাহক ১০,০০০ টাকার বেশি কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন। অর্থনীতিবিদ আকাশ জিন্দালের মতে, “নারীদের নিজস্ব আয় বাড়ার কারণে পরিবারের উৎসব সংক্রান্ত কেনাকাটায় তাঁদের সিদ্ধান্ত এখন প্রধান ভূমিকা পালন করছে।”

বর্তমানে অনলাইন শপিং, এআই-বেসড স্টাইলিং অ্যাপ এবং কুইক-কমার্সের কল্যাণে ব্যস্ত নারীদের জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। পাশাপাশি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বনির্ভরতার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। কোনো বিশাল শোরুম না খুলেও ঘরের চারদেওয়াল থেকেই মহিলারা সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সিএমএআই (CMAI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের তৈরি পোশাকের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এতে নারী পোশাক বিক্রির হার বার্ষিক ৮.৯% হারে বাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও স্থানীয় কলা থেকে শুরু করে আধুনিক অ্যাপ-ভিত্তিক শপিং—উৎসবের অর্থনীতিকে চালিকাশক্তি হিসেবে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরাই।