জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৮%! অনিশ্চিত বিশ্ব অর্থনীতির মাঝে ভারতের অবিশ্বাস্য সাফল্য নিয়ে মোদীর হুঙ্কার

মঙ্গলবার দিল্লিতে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামের অষ্টম আসরে ‘ক্ষমতায়নের জন্য শক্তি’-র এক নতুন ও বৈপ্লবিক দর্শন তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, ক্ষমতার প্রকৃত সার্থকতা কখনো কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে থাকে না; বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহযোগিতা এবং অন্যকে সফল হতে সাহায্য করার মধ্যেই এর মূল শক্তি নিহিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তি, তথ্য (ডেটা), জ্ঞান এবং উদ্ভাবনই বৈশ্বিক ক্ষমতার মূল উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই প্রযুক্তির সুফল যেন কেবল মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের উন্নতিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে—সেই দিকেই নজর দেওয়া উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি এক নতুন চিন্তাধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণকারী ক্ষমতার ঊর্ধ্বে উঠে সক্ষমতা বৃদ্ধিকারী শক্তি, প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতার জায়গায় সহযোগিতামূলক শক্তি এবং কেবল নিজের সাফল্যের চেয়ে অন্যদের সফল করতে সাহায্য করার শক্তি।”

বিশ্বব্যাপী চরম আর্থিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারত যে এক মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে, তা গর্ভের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছুঁয়েছে অবিশ্বাস্য ৭.৮ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত আজ কেবল বিনিয়োগের কোনো সাধারণ গন্তব্য নয়; বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ গঠনে ভারত এখন এক অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার।” ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশ বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।

ভারতে প্রথমবারের মতো এই ফোরাম আয়োজনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ব্লুমবার্গকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বলেন, “তিনি সঠিক সময়ে একদম সঠিক স্থানটি বেছে নিয়েছেন।” উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের অক্টোবরে আয়োজিত এই বিশেষ আসরে বিশ্বের ৫০০-রও বেশি শীর্ষ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি একত্রিত হয়েছেন। ‘আ ওয়ার্ল্ড ইন প্লে: ডিফাইনিং দ্য নিউ লিভারস অফ পাওয়ার’ শীর্ষক মূলভাবকে সামনে রেখে প্রতিনিধিরা পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির রূপরেখা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করছেন।