‘তুই আমায় গুলিও করতে পারবি না, মারতেও পারবি না!’ থালাইভার সামনে কোন শর্ত রেখে তবেই ‘জেলর ২’-এ রাজি হলেন মহাগুরু?

প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ ব্যবধান। দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফের একবার বড়পর্দায় একসঙ্গে ম্যাজিক দেখাতে চলেছেন ভারতীয় সিনেমার দুই প্রবাদপ্রতিম লিজেন্ড—রজনীকান্ত এবং মিঠুন চক্রবর্তী। তাও আবার সোজাসুজি হিরো বনাম খলনায়কের এক মহাকাব্যিক দ্বৈরথে! ২০২৬ সালের অন্যতম চর্চিত ও অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ছবি ‘জেলর ২’-কে ঘিরে সিনেমহলে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে ছবির এক জমকালো প্রচার অনুষ্ঠানে এই ছবির পর্দার পেছনের এক দারুণ ও চাঞ্চল্যকর গল্প শেয়ার করেছেন খোদ ‘থালাইভা’ রজনীকান্ত, যা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন ভক্তরা।

ছবির কাস্টিং যখন প্রাথমিক পর্যায়ে চূড়ান্ত হচ্ছিল, তখন নির্মাতারা বাংলা ও বলিউডের মেগাস্টার মিঠুন চক্রবর্তীকে এই ছবির প্রধান ভিলেনের চরিত্র অফার করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সোজা না বলে দিয়েছিলেন ‘ডিস্কো ড্যান্সার’! রজনীকান্ত নিজেই সেই মজার ঘটনা ভাগ করে বলেন, “প্রযোজকরা যখন ওকে আমার ছবিতে ভিলেনের রোল অফার করে, ও সোজাসাপটা না করে দিয়েছিল। বলেছিল, ‘আমি রজনীর ভিলেন? ও আমার খুব ভালো বন্ধু। রজনী হিরো আর আমি ভিলেন? আমাকে কি রজনীকান্তের মার খেতে হবে নাকি? কোনো প্রশ্নই নেই, আমি এ ছবি করছি না!’”

মিঠুন যখন সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলেন, তখন ছবিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে খানিক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নিয়তির পরিকল্পনা ছিল অন্যরকম। রজনীকান্ত জানান, এরপর ডব্লিউএভেস সামিট (WAVES Summit)-এ ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মিঠুনের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সেখানেই এই ছবি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। মিঠুন নিজেই রজনীকে জানান যে তাঁকে এই ছবির জন্য ভাবা হয়েছে। রজনী যখন তাঁকে রাজি হওয়ার জন্য জোর অনুরোধ করেন, তখন মিঠুন এক অদ্ভুত ও মজার শর্ত জুড়ে দেন। থালাইভার কথায়, “ও আমায় বলল, ‘ওরা তো আমায় এই ছবির অফার দিয়েছে। তুই বললে আমি করব।’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই কর, দারুণ হবে।’ তখন ও শর্ত দিল, ‘ঠিক আছে, তবে একটা শর্তে রাজি হতে হবে—তুই আমাকে মারতেও পারবি না, গুলিও করতে পারবি না!’ আমি বললাম, ‘পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছি।’ তবে আমার মনে হয়েছিল, ও এমনিই মজা করে কথাটা বলেছিল।”