নবদ্বীপে যুবক খুন, ধার শোধ করতে গিয়ে মৃত্যু, TMC-র বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ!

নবদ্বীপের যুবক সঞ্জয় ভৌমিক খুনের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতের বড় দিদি সাথী চক্রবর্তী ভৌমিকের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ধারের টাকা চাইতে গিয়েই তার ভাইকে খুন করা হয়েছে। তিনি সরাসরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন।
পরিবারের অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় তৃণমূলের কয়েকজন নেতার দিকে। সাথী চক্রবর্তী ভৌমিকের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তারক দাস, স্থানীয় বুথ সভাপতি গদাধর রায় (গদু), তাপস দাস এবং অরিন্দম মণ্ডলের মতো একাধিক ব্যক্তি এই খুনের সঙ্গে জড়িত। তাদের অভিযোগ, এই দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের ছত্রছায়ায় এলাকায় সন্ত্রাস চালায়।
মৃতের দিদি আরও জানান, তাদের পরিবার ২০১২ সাল থেকে বিজেপিকে সমর্থন করে, আর সেই কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে সঞ্জয়কে খুন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তৃণমূলের দাপটে এবং তাদের পরিবারে আরও দুটি মেয়ে থাকায় নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে তার মা অনেক কিছু বলতে ভয় পাচ্ছেন।
পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, মৃত সঞ্জয় ভৌমিকের দিদি সাথী চক্রবর্তী ভৌমিক এই মামলার সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছেন। তারা পুলিশের ওপর কোনো আস্থা বা ভরসা রাখতে পারছেন না বলেই এই দাবি। তাদের একমাত্র চাওয়া, এই খুনের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
এদিকে, পরিবারের এই অনাস্থার কারণে শুক্রবার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়নি। পরিবারের দাবি ছিল, কৃষ্ণনগর পুলিশ মর্গের পরিবর্তে কল্যাণী এইমসে ময়নাতদন্ত করা হোক। এই দাবির প্রেক্ষিতে নবদ্বীপ আদালতে আবেদন জানানো হলে আদালত তাতে সায় দেয়। শনিবার কল্যাণী এইমসে ময়নাতদন্ত হবে। বর্তমানে মৃতদেহ কৃষ্ণনগর শক্তিনগর পুলিশ মর্গে রাখা আছে। সেখান থেকেই তা কল্যাণী নিয়ে যাওয়া হবে।