নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা, ভোট ঘোষণা হতেই বড় চাল বামেদের!

আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ভোট ঘোষণার পরদিনই শনিবার রাতে এই দুই আসনের জন্য নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল বামেরা। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছে যুব সংগঠনের নেতা তথা আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলীকে। অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বামেদের টিকিটে লড়বেন সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বামেদের প্রার্থী তালিকার আগেই শুক্রবার রাতে এই দুই আসনেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস। রেজিনগর কেন্দ্রে হাত শিবিরের হয়ে লড়বেন আবদুল্লাহিল কাফি এবং নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন মিলন প্রধান। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনেও যে এই দুই শরিক দল আলাদা পথেই হাঁটছে, তা এই ঘোষণাতেই স্পষ্ট হয়ে গেল। বিষয়টি নিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তাদের সঙ্গে আসেনি এবং উপনির্বাচনেও তারা আলাদা প্রার্থী দিয়েছে, যা প্রতিটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অধিকার। তবে রাজ্যজুড়ে সমস্ত বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে একজোট করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিরোধী শিবির যখন একে একে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রচারের মাঠে নেমে পড়েছে, তখন রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এই দুই আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি। এর মাঝেই দলীয় সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন মমতাপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, কলকাতা থেকে যেসব নেতার মাটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, তাঁদের সংগঠনের দায়িত্ব দিয়ে নন্দীগ্রামে পাঠানো হয়েছিল। আর সেই কারণেই আজ সেখানে দলের এই করুণ দশা। অন্যদিকে, বিজেপিও এখনও সরকারিভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করলেও, এই দুই কেন্দ্রের অন্তত একটিতে জয়ের ব্যাপারে প্রবল আশাবাদী বঙ্গ নেতৃত্ব। খুব শীঘ্রই দিল্লি থেকে এই দুই আসনে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে খবর।