২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির পারদ তুঙ্গে। রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে আবারও বড় সাফল্য পেল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় সমবায় সমিতি দখল করল ঘাসফুল শিবির। আমদাবাদের পর এবার রানিপুর সমবায় সমিতির দখল নিল রাজ্যের শাসক দল।
র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও ফলাফল
রবিবার বিকেল হতেই সবুজ আবিরে মেতে ওঠে রানিপুর এলাকা। জানা গিয়েছে, রানিপুর সমবায় সমিতির মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে ৫টিতে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি ৪০টি আসনে সরাসরি লড়াই ছিল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে।
চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী:
-
তৃণমূল কংগ্রেস: ২৭টি আসন (৫টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ)
-
বিজেপি: ১৮টি আসন
কেন এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ?
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে স্বল্প ব্যবধানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের ক্ষত আজও তাজা তৃণমূল কর্মীদের মনে। তাই স্থানীয় স্তরের প্রতিটি জয়কেই ‘বদলা’ হিসেবে দেখছেন কর্মীরা। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ২০২৬ নির্বাচনের আগে এই সমবায় ভোট ছিল লিটমাস টেস্ট বা সেমিফাইনাল, যেখানে বিজেপিকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে মানুষ।
তুরুপের তাস কি ‘সেবাশ্রয়’?
গত সপ্তাহে আমদাবাদ এবং এবার রানিপুর—এই ধারাবাহিক জয়ের নেপথ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা ‘সেবাশ্রয়’ উদ্যোগকে কৃতিত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। শাসক দলের দাবি, এই মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে মানুষের দুয়ারে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সাহায্য করেছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই ফলাফলকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতৃত্ব।
“সেবাশ্রয় দ্রুত নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে একটি বিশ্বস্ত জীবনরেখায় পরিণত হচ্ছে। এই জয় মানুষের আস্থার প্রতিফলন,” বলে এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি নন্দীগ্রাম সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে ৯টি আসনের সবকটিতে জিতে বিজেপি চমক দিয়েছিল। তবে এবারের রানিপুর সমবায়ে ঘাসফুল শিবিরের এই জয় নন্দীগ্রামের রাজনীতির সমীকরণ ফের একবার পাল্টে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।