নন্দীগ্রাম—বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই হাই-প্রোফাইল আসনেই এবার সবথেকে বড় চমক দিতে চলেছে নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। শুক্রবার আইএসএফ-এর তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা নন্দীগ্রাম আসনে লড়াই করতে অনড়। কেবল বিজেপি বা তৃণমূল নয়, নওশাদের দল এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বামফ্রন্টকেও। সিপিএম এবং বাম শরিক সিপিআই-কে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে আইএসএফ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা এই আসনে কোনো সমঝোতা করতে রাজি নয়।
নন্দীগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। এখানে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের বাজি পবিত্র কর। অন্যদিকে, বামফ্রন্ট এই আসনটি সিপিআই-কে ছেড়েছে এবং সেখানে প্রার্থী হয়েছেন শান্তি গিরি। কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকীর দল যেভাবে একক শক্তিতে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ভাঙন ধরার আশঙ্কা করছে বাম-তৃণমূল উভয় পক্ষই। আইএসএফ-এর দাবি, নন্দীগ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের আসল লড়াই লড়ছেন নওশাদরাই, তাই সেখানে জোটের স্বার্থে বামেদেরই সরে দাঁড়ানো উচিত।
কেবল নন্দীগ্রাম নয়, ভাঙড়, ক্যানিং পূর্ব এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একঝাঁক আসনেও নওশাদরা একক শক্তিতে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএসএফ-এর এই অনড় মনোভাব বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিতে পারে। যদি নন্দীগ্রামে আইএসএফ শক্ত প্রার্থী দেয়, তবে বিরোধী ভোট ভাগাভাগির সরাসরি সুবিধা পেতে পারে বিজেপি অথবা তৃণমূল। নওশাদ সিদ্দিকী কি সত্যিই নন্দীগ্রামে কোনো ‘বড় খেলা’ ঘুরিয়ে দেবেন, নাকি এই চতুর্মুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে অন্য কেউ—সেদিকেই এখন নজর গোটা বাংলার।