২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই বাংলার রাজনীতির সব আলো এখন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে। ২০২১-এর নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— নন্দীগ্রামের পর কি এবার ভবানীপুরেও অঘটন ঘটতে পারে? শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জে কি তবে সত্যিই নড়বড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন?
ভোটের ময়দানে উত্তেজনার পারদ: গত সপ্তাহেই ভবানীপুর কেন্দ্রে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক একদিন পরেই বৃহস্পতিবার শুভেন্দু অধিকারীও এই আসন থেকে তাঁর মনোনয়ন পেশ করেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, শুভেন্দু এবার কেবল নন্দীগ্রাম নয়, মমতাকে সরাসরি টেক্কা দিতে তাঁর খাসতালুক ভবানীপুরকেও বেছে নিয়েছেন। বিজেপি শিবিরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নিজের কেন্দ্রেই আটকে রাখা তাদের রণকৌশলের অংশ।
ভবানীপুরের সমীকরণ ও অঘটনের আশঙ্কা: কেন ভবানীপুর নিয়ে এতটা চিন্তিত শাসকদল? বিশ্লেষকদের মতে, এই কেন্দ্রের জনবিন্যাস বিজেপির জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। ভবানীপুরে প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোটার অবাঙালি, যাঁদের বড় অংশ ঐতিহ্যগতভাবে পদ্ম শিবিরের দিকে ঝুঁকে থাকেন। এছাড়া, সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে প্রায় ৪৮ হাজার ‘ভুয়া’ নাম বাদ পড়ায় ভোট লুটের সম্ভাবনা কমেছে বলে দাবি বিরোধীদের।
শুভেন্দুর বিশেষ ‘ইস্তাহার’: মুখ্যমন্ত্রীকে কোণঠাসা করতে শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ভবানীপুরবাসীর জন্য আলাদা করে চার দফার একটি বিশেষ ইস্তাহার প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সমস্যা সমাধান ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সরাসরি মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি— ভবানীপুরের মানুষ তাঁদের ‘ঘরের মেয়ে’কেই বেছে নেবেন এবং ব্যবধান হবে রেকর্ড গড়ার মতো।
নন্দীগ্রামের স্মৃতি বনাম ভবানীপুরের লড়াই: ২০২১ সালে শুভেন্দুর কাছে নন্দীগ্রামে হারতে হয়েছিল মমতাকে। এবার নিজের গড়ে দাঁড়িয়ে সেই অপমানের বদলা নেওয়া তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। উল্টোদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর লক্ষ্য ‘জায়েন্ট কিলার’ হিসেবে নিজের তকমা ধরে রাখা। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যে, যার চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। ভবানীপুর কি বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনও ‘মিরাকল’ দেখাবে? উত্তর এখন কেবল ইভিএম-এর ভেতর।





