নদী লুঠের মহোৎসব! মমতার হুঁশিয়ারি তুড়ি মেরে উড়িয়ে জলঢাকায় বালি মাফিয়াদের ‘রাজ’!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে বালি ও মাটি পাচারের দাপট কমেনি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জলঢাকা নদীর বুক চিরে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে চলছে বালি লুঠের মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত গভীর হতেই নদীর নিস্তব্ধতা ভেঙে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডাম্পার, ট্রলার, জেসিবি এবং পোকলেনের মতো বালি উত্তোলনের অত্যাধুনিক যন্ত্র। ময়নাগুড়ি, মেখলিগঞ্জ এবং ধূপগুড়ি থানার পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে এই পাচারচক্র সচল থাকা নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিপন্ন নদী, আতঙ্কে গ্রাম: বালি মাফিয়ারা এতটাই শক্তিশালী যে, গ্রামবাসীরা প্রাণের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ উঠেছে, ময়নাগুড়ির আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জলঢাকা নদীর প্রধান বাঁধ কেটে নদীর গতিপথ আটকে অবৈধভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। যত্রতত্র গভীর গর্ত খুঁড়ে বালি তোলার ফলে নদীগর্ভে বড় বড় খাদ তৈরি হয়েছে। এর আগে এই ধরনের গর্তে পড়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। বর্ষায় নদী ফুলেফেঁপে উঠলে ওই কাটা বাঁধ দিয়েই গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভিন রাজ্যে পাচার: সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই বালি এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা তো বটেই, এমনকি ভিন রাজ্যেও পাচার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইডি (ED) রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বালি ও কয়লা পাচার নিয়ে তল্লাশি চালালেও, স্থানীয় মাফিয়াদের দাপট বিন্দুমাত্র কমেনি। সেচ দফতর ও ভূমি দফতর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অবৈধ কারবার জেলা রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy