নদী ভাঙনের পর এবার মারণ কোপ সমুদ্রের! গঙ্গাসাগরের সেই বিখ্যাত কাঠের বাংলো চোখের সামনেই হল তছনছ

বাংলার উপকূলবর্তী অঞ্চলে নদী ভাঙনের পাশাপাশি এবার ভয়ানক রূপ ধারণ করেছে সমুদ্রভাঙন। আর এই প্রাকৃতিক গ্রাসের জেরেই কার্যত বিলুপ্তির পথে গঙ্গাসাগরের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী শালকাঠের কটেজটি। আজ থেকে ঠিক পনেরো বছর আগে, ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর মেলা পরিচালনা এবং প্রশাসনিক কাজের ব্যাপক সুবিধা দিতে ইকো-ট্যুরিজম মাধ্যমের ওপর ভরসা করে এই আকর্ষণীয় বাংলোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পেছনে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই মনোরম কটেজটি স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশ-বিদেশ থেকে আসা পুণ্যার্থীদের কাছে সবসময়ই অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু বর্তমানে সমুদ্রের হিংস্র ঢেউয়ের আঘাতে এর মূল ভিটেমাটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং সমগ্র পর্যটন কাঠামোটি আজ ধ্বংসের চূড়ান্ত মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি এভাবে চোখের সামনে চোখের পলকে জলে তলিয়ে যেতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমুদ্রবাঁধ নির্মাণের দাবি তুলেছেন, যাতে সৈকত এবং বাকি ঐতিহ্যগুলো কোনোমতে রক্ষা করা যায়। আর এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজেশ জানা তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূল সরকারের চূড়ান্ত উদাসীনতা, ভ্রান্ত নীতি এবং কাটমানির রাজনীতির ফলেই আজ এই কোটি টাকার সম্পত্তি জলের তলায় চলে গেল। বিগত পনেরো বছরের এই তৃণমূল জমানায় ভাঙন রোধের নামে কোনো স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি, যা হয়েছে সবই কেবল লোকদেখানো ও কাটমানি খাওয়ার বাহানা মাত্র।”
অন্যদিকে, লাগাতার এই ভাঙনের ভয়ংকর বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিলেও বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলেই এই লাগাতার ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, যার জেরে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। সবমিলিয়ে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক দোষারোপের এই খেলায় দ্রুত একটি শক্তিশালী ও স্থায়ী সমুদ্রবাঁধ তৈরি করে গঙ্গাসাগরের অবশিষ্ট ঐতিহ্য ও পর্যটন মানচিত্রকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন এলাকাবাসী ও পর্যটকদের একমাত্র মূল দাবি।