‘নথি দেখাতে না পারলে বাদ যাবে নাম!’ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে SIR-এ, স্থগিতের দাবিতে অধিবেশন উত্তপ্ত করার পরিকল্পনা তৃণমূলের

ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিশেষ প্রক্রিয়া Special Summary Revision (SIR)-এর ঘোষণা ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এই ইস্যুতে এবার সরাসরি রাজ্য বিধানসভায় ‘SIR’-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।

গত ২৭ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR চালুর দিনক্ষণ ঘোষণা করার পর থেকেই তৃণমূলের তরফে আতঙ্কের অভিযোগ সামনে এসেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই ভয় তৈরি হয়েছে যে, প্রয়োজনে নথি দেখাতে না পারলে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। এই অনিশ্চয়তার পরিবেশকেই তৃণমূল রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে।

পদযাত্রা ও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
এই প্রতিবাদ জানাতেই মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত এক হাঁটা মিছিলে অংশ নেন, যেখানে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “SIR বন্ধ করো,” “ভোট কাড়ার চাল চলবে না।”

জোড়াসাঁকোয় এক বক্তৃতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা নির্বাচন নয়, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “SIR দিয়ে ভয়ের রাজনীতি চালাতে চাইছে বিজেপি ও কমিশন।” তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, যেখানে বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-এর পরিবর্তে রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা ফর্ম বিলি করছেন, সেখানেই সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

তৃণমূল সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে মানসিক চাপ ও উদ্বেগে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন বা আত্মঘাতী হয়েছেন, যদিও এই অভিযোগ নির্বাচন কমিশন বা পুলিশের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি।

বিধানসভা অধিবেশনে তৃণমূলের লক্ষ্য
তৃণমূলের আইনপ্রণেতাদের দাবি, ভোটার তালিকার ফর্ম বিলি নিয়ে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বহু মানুষ মনে করছেন তাঁরা ভোটের অধিকার হারাতে চলেছেন। শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূল এই আতঙ্ক, কমিশনের ব্যবস্থাপনা এবং নথি যাচাইকরণে অস্পষ্টতার মতো তিনটি বিষয় তুলে ধরবে। তৃণমূলের মূল লক্ষ্য হলো SIR প্রক্রিয়া রাজ্যজুড়ে স্থগিত বা পুনর্বিবেচনা করানো।

অন্যদিকে, বিজেপির পাল্টা দাবি, SIR একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং তৃণমূল ভয় দেখিয়ে ভোট ব্যাঙ্ক ধরে রাখতে চাইছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে যে, নিয়ম মেনে BLO-রাই দায়িত্বে থাকবে, ভোটার পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক নয়, এবং কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। এত আশ্বাস সত্ত্বেও রাজ্যে পরিস্থিতি যে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত, তা স্পষ্ট।