নগদ নয়, ঘুষ হিসেবে নিতেন সোনা! পুর দুর্নীতি কাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য ইডির হাতে, বড় বিপদে মদন মিত্র

শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর বিশেষ দল হানা দিয়েছে কামারহাটির তিনবারের তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাসভবন ও দফতরে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশিতে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের হাতে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে মদন মিত্রের নাম উঠে এসেছে।
ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ করার জন্য মদন মিত্রের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুর্নীতির সাথে সরাসরি মদনের যোগসূত্র রয়েছে এবং তার মাধ্যমে অন্তত ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই কাজের বিনিময়ে কেবল নগদ টাকাই নয়, ঘুষ হিসেবে নেওয়া হতো বিপুল পরিমাণ সোনাদানা। তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, দুর্নীতির এই বিপুল অর্থ সরাসরি মদন মিত্রের কাছে না পৌঁছে মাঝপথে ‘মিডলম্যান’ বা দালালদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হতো। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এখন সেই সব মিডলম্যানদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, কামারহাটি পুরসভা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম ইডির আতশ কাচের তলায় রয়েছে। ২০১১, ২০২১ এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়া মদন মিত্রের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েই এই দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ। শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, কালীঘাট ছাড়াও বেহালা, জোকা, বেলেঘাটা, দক্ষিণেশ্বর এবং কামারহাটির একাধিক ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালাচ্ছে ইডি। প্রতিটি জায়গায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে শুরু হয়েছে নথি ও ডিজিটাল ডেটা সংগ্রহের প্রক্রিয়া।
প্রসঙ্গত, এই তল্লাশি অভিযানের ঠিক আগেই কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহার পদত্যাগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। চেয়ারম্যানের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং প্রশাসনিক বাধার প্রতিবাদে মদন মিত্র প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন। দলের কাউন্সিলরদের পদত্যাগের ডাক দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, এটিই নাকি অপমানের উপযুক্ত জবাব। কিন্তু সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই ঝটিকা হানা মদন মিত্র তথা শাসকদলের কাছে বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার, ইডির এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই চক্রে আরও কারা জড়িত রয়েছে।