প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে মাত্র ১ টাকা উদ্ধার হয়! অর্থ পাচার নিয়ে প্রধান বিচারপতির চাঞ্চল্যকর তথ্যে শোরগো

দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতি—সর্বত্রই অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং এক বড় আতঙ্কের নাম। এই প্রসঙ্গে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্যকান্ত। শনিবার কেমব্রিজে অনুষ্ঠিত ৪৩তম আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অপরাধ সম্মেলনে তিনি জানান, অবৈধ উপায়ে অর্জিত প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি মাত্র প্রায় ১ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, অর্থাৎ ৯৯ শতাংশ কালো অর্থ উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।

কেন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না? প্রধান বিচারপতির মতে, অর্থনৈতিক অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে আইন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে চলে। একবার অবৈধ অর্থ বা সম্পত্তি অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়ে গেলে তা উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও ভারতের সঙ্গে একাধিক দেশের প্রত্যর্পণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি (MLAT) রয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির থেকেও দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক অপরাধের পরিধি বিস্তার লাভ করছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো দেশই একা এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের মোকাবিলা করতে পারবে না। সন্দেহজনক সম্পদ জব্দকরণ এবং আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়ে সব দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেরও উদ্ধৃতি দেন তিনি, যেখানে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় তথ্য ও সরকারি পরিসংখ্যান কী বলছে? সরকার সংসদকে আগেই জানিয়েছে যে, ২০১৫ সালে মোট ৬৪৮ জন ব্যক্তি বিদেশে লুকানো প্রায় ৪,১৬৪ কোটি টাকার সম্পদের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর থেকে সরকার কর ও জরিমানা বাবদ প্রায় ২,৪৭৬ কোটি টাকা আয় করে। ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কালো টাকা আইনের অধীনে ৩৯৪টি মামলায় মোট ১৫,৫৭০ কোটি টাকারও বেশি কর দাবি করা হয়েছে এবং ১২৫টি মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৩টি পিএমএলএ (PMLA) মামলার তদন্তকালে ইডি ৪২.৫৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং ফেমা-র (FEMA) অধীনে ৯৩.০৭ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। তবে, দেশে মোট কত পরিমাণ কালো টাকা রয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি হিসাব বা নির্ভরযোগ্য অনুমান করা এখনও সম্ভব হয়নি বলে ২০১৯ সালে সংসদীয় অর্থ কমিটি স্বীকার করেছিল।

Pratik Saha
  • Pratik Saha