নগদ টাকার পাহাড় আর সোনার অন্তর্বাস! ইরাকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে ফাঁসল প্রভাবশালী সাংসদ

ইরাকের রাজনৈতিক আঙিনায় এই মুহূর্তে দুর্নীতির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জেরে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। বিশেষ করে, এক নারী সাংসদ হিন্দ আল-আব্বাসির বাড়িতে তল্লাশি এবং সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, তাঁর বাড়ি থেকে ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা) নগদ, ২৭ কিলোগ্রাম খাঁটি সোনা এবং সোনা দিয়ে তৈরি অন্তর্বাসের মতো বিলাসবহুল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

ইরাক সরকার সম্প্রতি দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদ দমনকারী বিশেষ বাহিনী (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট) গ্রিন জোন-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সাংসদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয়। ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অঢেল নগদ টাকার স্তূপ, সোনার বার এবং বিলাসবহুল সামগ্রী। সোনা দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস বা ‘গোল্ডেন আন্ডারগার্মেন্টস’-এর দাবিটি ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।

যদিও এই অভিযানে শুধু হিন্দ আল-আব্বাসি নন, আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ফেঁসেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি অভিযানে ৪৭ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংসদ আলিয়া নাসিফের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিপুল পরিমাণ সোনা। আলিয়া নাসিফ এবং তাঁর পুত্রকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, সোনা দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস বা ওই ধরণের বিলাসবহুল সামগ্রী মূলত আলিয়া নাসিফের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবিগুলো ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “দুর্নীতির সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে।” আবার অনেকে এই ছবিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই দাবিগুলো কতটা সত্য? যদিও ইরাকি সরকার ও সংবাদমাধ্যমে নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু সোনা দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস বা ওই ধরণের নির্দিষ্ট কিছু দাবি এখনও সরকারিভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলোও এই ছবিগুলোকে সম্পূর্ণ যাচাই করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ইরাক দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও সম্পদ কুক্ষিগত করার সমস্যায় জর্জরিত। তেলসমৃদ্ধ এই দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির হার এতটাই বেশি যে, তা সাধারণ মানুষের কাছে অকল্পনীয়। এখন দেখার বিষয়, ইরাক সরকারের এই কঠোর অভিযান শেষ পর্যন্ত কতদূর পৌঁছায় এবং কতজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়।