ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল নেপালের একাধিক জেলা! হড়পা বানের কোপে কী পরিস্থিতি? সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত!

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। পাহাড়ি হড়পা বানের তাণ্ডবে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতওয়ান-সহ নেপালের একাধিক জেলা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে গেছে। ২০১৫ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে এই আকস্মিক বন্যা। এমতাবস্থায় চরম সঙ্কটের দিনে নেপালের পাশে ত্রাতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ সামরিক বিমানে করে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে কাঠমান্ডুতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে নেপালের কোথাও বৃষ্টির লেশমাত্র ছিল না। বরং ঝলমলে রোদের সঙ্গে আকাশ ছিল সম্পূর্ণ পরিষ্কার। কিন্তু সকাল প্রায় সাড়ে আটটা বা নটা নাগাদ হঠাৎই এক ভয়ংকর তীব্র গুড়গুড় শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখেন, বিস্ফোরণের ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে হু হু করে নেমে আসছে জলের প্রলয়ঙ্কর স্রোত। তিব্বত থেকে নেমে আসা ভোতেকোশি নদীর জলস্তর আচমকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলেই এই ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। রাসুয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই আকস্মিক বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে ইতিমধ্যেই টেলিফোনে বিস্তারিত কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, এই কঠিন সময়ে ভারতের প্রতিটি মানুষ তাদের নেপালি ভাই-বোনদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে। নেপালকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় মানবিক সাহায্য দিতে ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ভারতের বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলি সরাসরি নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।
ভারতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর C-130J বিশেষ সামরিক বিমানে করে প্রায় ১০ টন ওজনের জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও জীবনদায়ী চিকিৎসার সরঞ্জাম কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যের জন্য C-17 এবং C-130 বিমানসহ বিশেষভাবে সজ্জিত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকেও এই বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক সাহায্য চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে, তিব্বত থেকে নেমে আসা উত্তাল ভোতেকোশি নদী নেপালের অন্তত ছয়টি জেলা অতিক্রম করার পর সোজা গিয়ে মিশেছে বিহারমুখী গণ্ডক নদীর সঙ্গে। নেপালের পাহাড়ি ঢল থেকে নেমে আসা জলরাশির চাপে ইতিমধ্যেই ফুঁসতে শুরু করেছে গণ্ডক নদী। এই সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে বিহার প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তায় রাখা হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী এলাকার ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।