ভোটের বাদ্যি বাজলেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়ে যায় ‘বিনামূল্যে’ পরিষেবা বা উপহার দেওয়ার প্রতিযোগিতার হিড়িক। কিন্তু রাজ্যের ভাঁড়ারে যখন টান, ঋণের বোঝা যখন হিমালয়প্রমাণ, তখন কেন এই দান-খয়রাত? এই ‘খয়রাতি সংস্কৃতি’ বা ‘ফ্রিবি কালচার’ নিয়ে এবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় সরকারকে ভর্ৎসনা করে জানিয়েছে, জনগণের করের টাকা এভাবে ভোটের স্বার্থে বিলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক রাজ্যই বর্তমানে বিপুল আর্থিক দেনার দায়ে জর্জরিত। অথচ নির্বাচনের ঠিক আগে শাসক দলগুলি ভোটারদের টানতে এমন সব জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিতে পারে। আদালত জানিয়েছে, জনকল্যাণমূলক কাজ আর স্রেফ ভোট পাওয়ার জন্য খয়রাত বিলানোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকা প্রয়োজন। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, জল কিংবা গ্যাজেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজকোষ খালি করা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির পথে বড় বাধা।
এই মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, যদি রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যই ভেঙে পড়ে, তবে পরবর্তী সময়ে সেই পরিষেবাগুলি বজায় রাখা কি আদৌ সম্ভব? রাজনৈতিক দলগুলো দায়বদ্ধতা এড়িয়ে কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে এই পথ বেছে নিচ্ছে বলে মনে করছে আদালত। সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকেও এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর এই লাগামহীন প্রতিশ্রুতির ওপর নিয়ন্ত্রণ না আনলে ভবিষ্যতে বড়সড় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।