বিহারের ভাগলপুরে অবস্থিত সবোর-এর বিহার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU) কৃষি ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এতদিন যে ব্লুবেরি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার মতো শীতল দেশের ফসল হিসেবে পরিচিত ছিল, এবার তা ফলবে বিহারের মাটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ইতিপূর্বেই ব্লুবেরি গাছ লাগানো হয়েছে এবং বিহারের জলবায়ুর সঙ্গে সেগুলোকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার গবেষণা এখন তুঙ্গে। প্রাথমিক ফলাফল এতটাই ইতিবাচক যে, বিজ্ঞানী ও কৃষক—উভয় মহলেই খুশির হাওয়া।
উষ্ণ জলবায়ুতেও ফলবে ব্লুবেরি: সাধারণত ব্লুবেরি শীতল জলবায়ুর ফসল। তবে কৃষি বিজ্ঞানীরা এমন কিছু উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন যা বিহারের মতো উষ্ণ আবহাওয়াতেও বাম্পার ফলন দিতে সক্ষম। সুপারফুড হিসেবে পরিচিত এই ফল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজে ভরপুর। ভারতে এর চাহিদা আকাশছোঁয়া হলেও সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বিহারে এর সফল চাষাবাদ শুরু হলে আমদানির নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকরা অভাবনীয় মুনাফা পাবেন।
আয় বৃদ্ধিতে নয়া দিশা: বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ ডি.আর. সিং জানান, প্রথাগত ধান, ভুট্টা বা গমের চাষে লাভের পরিমাণ সীমিত। তাই কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য ব্লুবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফসলের (High-Value Crop) ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানী ডঃ প্রীতি সিংয়ের মতে, ব্লুবেরির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে, তাই বাজারে এর দামও অনেক বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন এই নতুন ফসল চাষের জন্য কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। উপযুক্ত মাটি, সঠিক সেচ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে ব্লুবেরি চাষ বিহারের কৃষি মানচিত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে দেবে।





