“ধর্ষিতা কেন দিনের পর দিন ট্রমা সহ্য করবে?”-আইন বদলের কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, নাবালিকার জীবন বাঁচাতে বড় সিদ্ধান্ত।

১৫ বছর বয়সী এক ধর্ষিতা নাবালিকার গর্ভপাত ঘিরে নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল দেশ। ৩০ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই কিশোরীকে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের দাবি, গর্ভাবস্থার এই পরিণত পর্যায়ে গর্ভপাত করা হলে নাবালিকার প্রাণসংশয় হতে পারে। এই সংবেদনশীল মামলাকে কেন্দ্র করে ‘মা বনাম ভ্রূণ’ নয়, বরং ‘এক শিশুর শরীরে অন্য শিশুর অস্তিত্ব’ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

কেন গর্ভপাতে আপত্তি এইমস-এর?

শীর্ষ আদালতে দাখিল করা রিভিউ পিটিশনে এইমস জানিয়েছে, নাবালিকা শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনও অত্যন্ত অপরিণত। ৩০ সপ্তাহে পৌঁছে গর্ভপাত করলে তার দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতা এবং মানসিক ট্রমা তৈরি হতে পারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যুক্তি, এই প্রক্রিয়া ওই নাবালিকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের মানবিক অবস্থান

মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার সম্ভাবনা না থাকলে গর্ভপাতের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। বিচারপতিদের মতে, ধর্ষণের শিকার হওয়া একটি মেয়ে যে ভয়াবহ ট্রমার মধ্য দিয়ে যায়, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আদালত এইমস-কে নির্দেশ দিয়েছে, মেয়েটির বাবা-মায়ের সঙ্গে বিশদে কথা বলতে। যদি চিকিৎসকদের পরামর্শ শোনার পরও নাবালিকা এবং তার পরিবার গর্ভপাতের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে আদালত বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই হওয়া উচিত।”

আইন সংশোধনের কড়া বার্তা কেন্দ্রকে

এই মামলার শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, কেন ধর্ষণের শিকার শিশুদের বছরের পর বছর বিচারপ্রক্রিয়ার ট্রমা সহ্য করতে হবে? শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে পরামর্শ দিয়েছে— আইন সংশোধন করে এমন ধর্ষণ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া যেন মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়, যাতে সময়মতো নাবালিকারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সাহায্য পেতে পারে।

আগামী পদক্ষেপ কী?

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এখন নাবালিকার পরিবারকে গর্ভপাতের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত পরামর্শ দেবেন। যদি কিশোরীর পরিবার নিজেদের মত পরিবর্তন না করে, তবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই গর্ভপাতের পথে হাঁটতে হবে চিকিৎসকদের। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশে শিশু সুরক্ষা এবং গর্ভপাত আইনের সীমাবদ্ধতাকে ফের একবার জনসমক্ষে নিয়ে এল।