মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বহু প্রতীক্ষিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠান ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে টানটান উত্তেজনা, ঠিক সেই সময় তাৎপর্যপূর্ণ ‘ঐক্যের বার্তা’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে কড়া বার্তা বলেই বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার সকালে, বাবরি মসজিদের শিলান্যাস শুরু হওয়ার ঠিক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি বিশেষ পোস্ট করেন। ৬ ডিসেম্বর, অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংসের এই দিনটিকে সংহতি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সেই উপলক্ষেই মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “একতাই শক্তি।”
মমতার কড়া বার্তা:
সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “বাংলার মাটি একতার মাটি। এই মাটি রবীন্দ্রনাথের মাটি, নজরুলের মাটি, রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের মাটি – এই মাটি কখনও মাথা নত করেনি বিভেদের কাছে। আগামী দিনেও করবে না।”
সকলকে সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “হন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন, বৌদ্ধ- বাংলায় সকলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে জানি। আনন্দ আমরা ভাগ করে নিই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার।” এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, “যারা সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালিয়ে দেশকে ধ্বংস করার খেলায় মেতেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।”
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা:
যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে একবারের জন্যও হুমায়ুন কবীর বা বেলডাঙার শিলান্যাস অনুষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, তাঁর এই ‘সংহতি দিবস’ পোস্টটি আসলে সাসপেন্ডেড বিধায়কের বিতর্কিত আয়োজনকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া। উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করার সময় ফিরহাদ হাকিম আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এই ধরনের নির্মাণ ওই এলাকায় সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াতে পারে।
বেলডাঙায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি:
অন্যদিকে, মরাদিঘি মোড়ের বিশাল মাঠে প্রায় ₹৬-৭ কোটি টাকা বাজেটে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। দুপুর ১২টায় মূল শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আগে সকাল থেকেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের দুই কাজীর কনভয় মাঠে প্রবেশ করেছে। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের জন্য তৈরি হচ্ছে ৪০ হাজার ‘শাহি বিরিয়ানি’। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে গোটা এলাকা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে।