“ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলেই কড়া জবাব!” পুজোয় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মন্তব্যে শুরু তুমুল বিতর্ক!

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। কিছুদিন আগেই বাংলার সার্বজনীন দুর্গোৎসব, থিম পুজো এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) কেন্দ্রীয় মার্গদর্শক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য স্বামী নির্গুণানন্দ। তাঁর সেই একপেশে মন্তব্যের পরেই গোটা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়ে যায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ঝড়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, ভিন রাজ্যের কোনো সংগঠনের সাধু-সন্ন্যাসীরা কি ঠিক করে দেবেন যে বাঙালি কীভাবে দুর্গাপুজো করবে, প্যান্ডেলে কী খাবে কিংবা কোন সংস্কৃতি মেনে চলবে?
মূলত, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ওই নেতার মূল আপত্তির জায়গাটি ছিল আধুনিক থিম পুজো এবং প্যান্ডেল সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে। স্বামী নির্গুণানন্দ প্রকাশ্যেই হুশিয়ারির সুরে বলেছিলেন যে, থিম ও লোক আকর্ষণের নামে যেন সনাতন ধর্ম এবং সংস্কৃতির কোনো রকম বিকৃতি না ঘটানো হয়। তাঁর এই ধরনের নির্দেশিকা এবং অহেতুক মাতব্বরি ভরা মন্তব্য মুহূর্তেই বাংলার সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবী মহলে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আপামর বাঙালি সমাজ একযোগে প্রশ্ন তোলে যে, যুগ যুগ ধরে নিজস্ব রীতি-রেওয়াজ, বিশ্বাস ও আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে যে দুর্গোৎসব হয়ে আসছে, তাতে হঠাৎ করে ভিন রাজ্যের কোনো সংগঠনের এমন নাক গলানোর অধিকার কে দিল? বাঙালি কোন দিনে কী খাবে বা কীভাবে উৎসব উদযাপন করবে, তা বাতলে দেওয়ার এই মানসিকতা নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় সর্বত্র।
পরিস্থিতি ক্রমেই হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে এবং বাঙালি সেন্টিমেন্টে ব্যাপক আঘাত লাগার আশঙ্কা টের পেয়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এই বিতর্কিত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের সুর কিছুটা নরম করতে বাধ্য হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার দুর্গাপুজোর আবেগ এবং আবহকে বুঝতে না পেরেই এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে তাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের ওপর অযথা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ চাপানোর এই অপচেষ্টা আবারও একবার প্রমাণ করে দিল যে, বাংলার নিজস্ব অসাম্প্রদায়িক ও উৎসবমুখর চরিত্রকে অন্য কোনো ছাঁচে ফেলা অসম্ভব।