পঞ্জাবের রাজনীতি ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায়ের সূচনা হলো। যে পবিত্র ভূমিতে ‘খালসা পন্থ’-এর জন্ম হয়েছিল, সেই তখত শ্রী কেশগড় সাহিব থেকেই ‘শুকরানা যাত্রা’র সূচনা করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান। উপলক্ষ— ‘জগত জোত শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিব সাতিকার (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন। এই ঐতিহাসিক আইনের মাধ্যমে ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে কঠোরতম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ক্যাবিনেট মন্ত্রী হরজ্যোত সিং বেইনসকে সঙ্গে নিয়ে গুরুদ্বারে মাথা নত করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রার্থনা শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মান বলেন, “আমার সত্তার প্রতিটি কণা ঈশ্বরের কাছে ঋণী। পবিত্রতার অবমাননা রোধে এই কঠোর আইন প্রণয়নের দায়িত্ব ঈশ্বর আমাকে দিয়েছেন। এর জন্য আমি গুরু সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই যাত্রা শুরু করেছি।”
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহেব জির অবমাননা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি পাঞ্জাবের শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। আগের সরকারগুলো এই বিষয়ে উদাসীন থাকলেও, বর্তমান সরকার অপরাধীদের রেহাই দেবে না। নতুন এই আইনটি ভবিষ্যতে ‘প্রতিরোধক’ হিসেবে কাজ করবে, যাতে কেউ পবিত্রতার অমর্যাদা করার সাহস না দেখায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এই আইনটি আমি পাস করিনি, স্বয়ং গুরু সাহেব আমাকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছেন। আমি তাঁর এক বিনীত সেবক মাত্র।”
এই আইনের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি কড়া আইনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। পাঞ্জাবের আধ্যাত্মিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে শ্রী আকাল তখত সাহেব, শ্রী দমদমা সাহেব এবং তখত শ্রী কেশগড় সাহেব সংলগ্ন শহরগুলিকে ইতিপূর্বেই ‘পবিত্র শহর’-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এই শহরগুলির উন্নয়নে তহবিলের কোনো অভাব হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাঞ্জাবের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ‘শুকরানা যাত্রা’ এক বড় বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





