‘ধর্মান্তরণের জুজু দেখিয়ে চার্চে ভাঙচুর!’ নদিয়া থেকে মেদিনীপুর—রাজ্যে খ্রিষ্টানদের নিরাপত্তা নিয়ে কেন বাড়ল চরম আতঙ্ক?

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে গির্জা, প্রার্থনা সভা এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর লাগাতার হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্যের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য খ্রিস্টান মিশনারি স্কুল। এই ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা কাটাতে এবং সম্প্রদায়ের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সময় চাইবেন খ্রিষ্টান প্রতিনিধিরা।

শনিবার শিলিগুড়ির ডন বসকো স্কুলে ‘বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্রিশ্চিয়ান স্কুলস’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মূলত উত্তরবঙ্গের মিশনারি স্কুলগুলির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কৌশল নির্ধারণই ছিল এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা। তবে শিক্ষার প্রসারে খ্রিস্টান মিশনারিগুলির দুই শতাব্দীরও বেশি গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তুমুল আলোচনা হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জালালখালিতে অবস্থিত সেন্ট লুইস ক্যাথলিক চার্চে ভাঙচুরের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মান্তরণের বেনজির অভিযোগ তুলে একদল লোক ওই চার্চে হামলা চালায়, যা পরবর্তীতে বড় সংঘর্ষের রূপ নেয়। এর আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়াতেও খ্রিস্টানদের প্রার্থনা সভায় বাধা ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, উপাসক ও যাজকদের নিয়মিত ভয় দেখানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে এর আগে জাতীয় ও রাজ্য মানবাধিকার কমিশন এবং সংখ্যালঘু কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল সংগঠনটি।

তবে নিউইয়র্ক সফরে বহুত্ববাদ নিয়ে মোহন ভাগবতের সাম্প্রতিক ইতিবাচক মন্তব্যে আশাবাদী হয়েছিলেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতারা। তাই রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করতেই এই সাক্ষাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আরএসএস-এর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, খ্রিস্টান স্কুল ও প্রতিষ্ঠানগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই।