দ্ধের অগ্নিকুণ্ডেও মাথা নোয়ালো না ভারত! হরমুজ প্রণালী দিয়ে এভাবেই এল তেলবাহী জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। ইজরায়েল-হামাস ও ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের ফলে গোটা বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্য এখন প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) নিয়ে আতঙ্ক চরমে। কিন্তু এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের দুটি বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই জলপথ অতিক্রম করল। যেখানে বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলি এই পথে পা বাড়াতে ভয় পাচ্ছে, সেখানে ভারতের এই সাফল্য কি কেবলই ভাগ্য, নাকি নেপথ্যে রয়েছে শক্তিশালী কূটনীতি?

ভারতের ‘সেফ প্যাসেজ’ ও কূটনীতির জয়: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান বা হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে অনেক দেশই এই পথ এড়িয়ে চলছে। কিন্তু ভারতের দুটি জাহাজ—একটি রাশিয়ার থেকে আসা এবং অন্যটি ইরাক থেকে—সম্পূর্ণ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের সঙ্গে ইরান ও আরব দেশগুলোর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কই এখানে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করেছে। ভারতের ‘তটস্থ নয়, বরং তটস্থ রাখা’র বিদেশনীতি আজ সুফল দিচ্ছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় পদক্ষেপ: ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় অর্থনীতিতে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। এই সংকটকালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। ভারতীয় নৌসেনা এই এলাকায় আগে থেকেই ‘অপারেশন সংকল্প’ (Operation Sankalp)-এর মাধ্যমে নজরদারি চালাচ্ছে। কিন্তু সামরিক শক্তির চেয়েও এখানে ভারতের ‘কূটনৈতিক ভারসাম্য’ বেশি কার্যকর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইজরায়েলের সাথে ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে ইরানের সাথে চাবাহার বন্দর নিয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্ব—ভারতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। এই কারণেই যুদ্ধের আগুনের মাঝেও ভারতের তেলের ট্যাঙ্কারগুলি নিরাপদ পথ খুঁজে পেয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy