শহর কলকাতার লাইফলাইন বাস পরিষেবা এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘ভোটের গ্রাসে’। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগেই মহানগরের রাস্তায় যাত্রী পরিষেবায় বড়সড় ধাক্কা লাগল। জানা যাচ্ছে, সোমবার থেকেই শহরের প্রায় ৫০ শতাংশ বাস উধাও হয়ে গিয়েছে। এর ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে নাকাল হতে হচ্ছে হাজার হাজার নিত্যযাত্রীকে।
ভোটের ডিউটিতে ১৬০০ বেসরকারি বাস: বিধানসভা নির্বাচনের কাজের জন্য সোমবার থেকেই বিপুল পরিমাণ সরকারি ও বেসরকারি বাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। বাস ইউনিয়নগুলির দাবি, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার বেসরকারি বাস চলে। তার মধ্যে প্রায় ১৬০০ বাসই ভোটের ডিউটিতে নেওয়া হয়েছে। এই বাসগুলি মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) এবং পুলিশকর্মীদের যাতায়াতের কাজে ব্যবহৃত হবে। প্রথম দফার জন্য ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ বাস তুলে নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৫ ও ২৭ এপ্রিল আরও কিছু বাস নির্বাচনী কাজে লাগানো হবে।
বিপাকে নিত্যযাত্রী ও বাস মালিকরা: এই পরিস্থিতিতে শহরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে অন্তত ৪০ শতাংশ বাস পরিষেবা সচল রাখার আর্জি জানিয়েছে ইউনিয়নগুলো। অন্যদিকে, সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা বেসরকারি বাসের এই অত্যাধিক ব্যবহার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, “সাধারণত একটি বাস দিনে ১৪০-২০০ কিমি চলে। কিন্তু ভোটের কাজে সেগুলিকে ৫০০-৬০০ কিমি পর্যন্ত ছোটানো হতে পারে। এতে বাসের আয়ু ও যন্ত্রাংশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।”
এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে সাধারণ মানুষকে আরও কয়েকদিন বাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা আর ভিড়ের ধকল সহ্য করতেই হবে।





