দেশে ফের বড়সড় ধর্মঘটের হুঙ্কার! সেপ্টেম্বরে টানা ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক, মাথায় হাত গ্রাহকদের

দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক ক্ষেত্রে এক বড়সড়ো অস্থিরতা তৈরি হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেন্টিভ বা পিএলআই (Performance Linked Incentive) কাঠামোর মধ্যে চলা তীব্র বৈষম্যের অভিযোগে ফুঁসছেন ব্যাংক কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অসন্তোষ এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। ব্যাংক কর্মচারীদের শীর্ষ সংগঠন ‘ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংক ইউনিয়নস’ (UFBU)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের বিভিন্ন দাবি ও বকেয়া সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে আগামী মাস থেকেই দেশজুড়ে দেশব্যাপী ধারাবাহিক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন ব্যাংকিং লেনদেন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউনিয়ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় এক দিনের জন্য দেশব্যাপী সম্পূর্ণ ব্যাংক ধর্মঘট পালিত হবে। এরপরেও যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। আগামী ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন দেশজুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘটের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যদি এই জট না কাটে, তবে আগামী ২৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘটের চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইউনিয়ন। ফলে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশের ব্যাংকিং পরিষেবায় ব্যাপক ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকদের তাই পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ লেনদেন এবং জরুরি আর্থিক কাজগুলি ছুটির দিনগুলির আগেই সেরে ফেলা শ্রেয়। তবে এই দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব অনলাইন ইউপিআই (UPI) লেনদেন কিংবা এটিএম (ATM) পরিষেবার উপর কতটা পড়বে, সে বিষয়ে ইউনিয়ন বা ব্যাংকিং কর্তাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।
ব্যাংক ইউনিয়নগুলির উত্থাপিত মূল দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি হলো—সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের নিয়ম চালু করা এবং প্রতি মাসের সবকটি শনিবার ও রবিবার সহ টানা দুই দিন করে পূর্ণাঙ্গ ছুটি নিশ্চিত করা। এর পাশাপাশি, কর্মচারীদের পারফরম্যান্স-ইনসেন্টিভ (PLI) প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক নীতি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি তোলা হয়েছে। ইউনিয়নের সাফ দাবি, কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব না রেখে ব্যাংকের সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের তাদের প্রকৃত কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সমানভাবে এই ইনসেন্টিভ প্রদান করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা ও কর্মী নিয়োগের বকেয়া দাবিদাওয়া নিয়েও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে ব্যাংক কর্মীরা।
এই আসন্ন ধর্মঘটের জেরে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির শাখাগুলিতে পরিষেবা সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI), ব্যাংক অফ বরোদা (Bank of Baroda), এবং পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB)-এর মতো প্রধান সরকারি ব্যাংকগুলির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে সাধারণ ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলো—এইচডিএফসি ব্যাংক (HDFC Bank), আইসিআইসিআই ব্যাংক (ICICI Bank)-এর মতো বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংকগুলি সরাসরি UFBU-র এই যৌথ ধর্মঘটের কর্মসূচির আওতাভুক্ত নয়। ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলিতে ব্যাংকিং পরিষেবা সাধারণত স্বাভাবিক থাকার কথা। তবে সরকারি ক্ষেত্রগুলিতে অচলাবস্থা তৈরি হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।