কালীপুজোর রাতে পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে সারা রাজ্যজুড়েই দেদার বাজি ফাটল। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ, রাত যত বেড়েছে ততই বেড়েছে বাজির তাণ্ডব। এর ফলস্বরূপ, সোমবার দীপাবলির রাতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বাতাসের মান আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছিল। যদিও আজ, মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) গড়ে ১৬৬-তে রয়েছে, তবে এই মাত্রাকে ‘খারাপ’ বলেই গণ্য করা হয়।
এক রাতেই দূষণ ৩৭৩ ছুঁয়েছিল
বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত এগারোটা থেকে বারোটার মধ্যে কলকাতার দূষণ মাত্রা ৩৭৩-এ ছুঁয়েছিল, যা ‘খুব খারাপ’ ক্যাটাগরিতে পড়ে। রাত ১০টার পর থেকেই সময়সীমা লঙ্ঘন করে বাজি ফাটানো শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তবে কলকাতা পুলিশের কমিশনার (CP) দাবি করেছেন, “অন্যান্য বছর কিংবা অন্যান্য মেট্রো শহরের তুলনায় এবছর কলকাতাতে অনেকটাই কম দূষণ, যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।” তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে কলকাতা শহর ও অ্যাডেড এরিয়া থেকে অনেকেই অভিযোগ করেছেন এবং এই ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিল্লিতে দূষণ পৌঁছেছে অসহনীয় মাত্রায়
অন্যদিকে, দূষণের নিরিখে এদিন সারা দেশের সব শহরকে টেক্কা দিয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। দীপাবলির রাতে দিল্লি কার্যত ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত হয়। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শহরের টিগরি এক্সটেনশন এলাকায় রাত সাড়ে ১০টায় পিএম (পার্টিকুলেট ম্যাটার) ২.৫-এর মাত্রা পৌঁছেছিল ২০৩৭-এ। ওই একই সময়ে বাওয়ানায় পিএম-২.৫ ছিল ১৪৫৫ এবং ডিফেন্স কলোনি এলাকায় তা পৌঁছয় ১৩৭৪-এ। সাধারণত, AQI ৫০০ ছাড়ালেই তাকে ‘অসহনীয়’ বা ‘গুরুতর’ বলে ধরা হয়। সেখানে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ২০০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দিল্লির বায়ুর গুণমান মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।