দেশজুড়ে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ জারির দাবি! বায়ু দূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, কাঠগড়ায় সরকার

দেশজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা বায়ু দূষণ মোকাবিলায় পদক্ষেপের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের ওয়েলনেস চ্যাম্পিয়ন, লিউক ক্রিস্টোফার কুটিনহো। আবেদনে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।
কুটিনহো তার আবেদনে তুলে ধরেছেন যে নীতিগত কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও, দেশের শহরাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ সুস্থ বাতাস গ্রহণ করতে পারছেন না। অনেক জায়গায় বাতাসের মান শুধু খারাপ নয়, ‘খুব খারাপ’ স্তরে পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় বর্ণিত জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষার মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করা যায়।
আবেদনকারী সমস্যা বোঝাতে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলির দূষণ মাত্রা তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যেখানে ধূলিকণার সূচক (PM) ৪০ থেকে ৬০-এর মধ্যে থাকা উচিত, সেখানে দিল্লিতে তা ১০৫, কলকাতায় ৩৩ এবং লখনউয়ে ৯০। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর প্রস্তাবিত মাত্রা যেখানে মাত্র ৫ এবং ১৫, সেখানে ভারতে এই পরিমাপক মাত্রা অনেক বেশি করে ধরা হয়।
আবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশের প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন বিষাক্ত বায়ু সেবন করছেন। সরকারি সমীক্ষা অনুসারে, শুধু দিল্লিতেই ২২ লক্ষ স্কুল ছাত্রের ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে, যা সারানো সম্ভব নয়।
কুটিনহো দেশে দূষণ পরিমাপক কেন্দ্রের অপ্রতুলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরাঞ্চলে অন্তত ২৮০০ এবং গ্রামাঞ্চলে ১২০০ দূষণ পরিমাপক কেন্দ্র প্রয়োজন হলেও, তা গড়ে তোলা হয়নি। এছাড়া, ভারত স্টেজ ফোর (BS-IV) গাড়িগুলির মাধ্যমে অনুমোদিত সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি নাইট্রোজেন অক্সাইড দূষণ ছড়ানো হয়—বাসে ১৪ গুণ, ট্যাক্সিতে ৫ গুণ এবং গাড়িতে দ্বিগুণ। বিধিভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে দিল্লিতে বায়ু দূষণ আইনে একটিও ফৌজদারি মামলা হয়নি।