দেরিতে আগমন, দেরিতে বিদায়! আবহাওয়াতে চরম বদল, আসছে ‘তুষারঝড়ের মতো’ শীত; বাড়বে কি শীতের স্থায়ীত্ব?

নভেম্বর মাস প্রায় শেষ হতে চলল, কিন্তু কলকাতায় এখনও মাঝেমধ্যে ফ্যান চালাতে হচ্ছে। কখনও হালকা ঠান্ডা লাগছে, আবার কখনও ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর। আবহাওয়ার এই ভয়ঙ্কর পরিবর্তন সাধারণ মানুষকে বেশ দ্বিধায় ফেলেছে।
যেখানে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই সাধারণত শীতের আমেজ জাঁকিয়ে বসার কথা, সেখানে এখনও পর্যন্ত শহর জুড়ে গরম জামাকাপড় বের হয়নি। তবে কি এই বছর আবহাওয়ার ছকে আরও বড়সড় বদল আসতে চলেছে?
আসছে ‘ভয়ঙ্কর’ শীত!
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বছর শীত দেরিতে শুরু হলেও দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর ঠাণ্ডা পড়তে পারে। দেশের বহু রাজ্যে তুষার ঝড় হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিশেষ এক প্রাকৃতিক চক্রের প্রভাব।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট ‘লা নিনা’র প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবার জাঁকিয়ে শীত পড়বে। জানা গিয়েছে, কলকাতাতেও এই বছর কনকনে শীত পড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
কী এই ‘লা নিনা’ এবং প্রভাব কী?
‘লা নিনা’-এর প্রভাব ‘এল নিনো’র থেকে বিপরীত। এর প্রভাবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। ফলস্বরূপ, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে, তুষারপাত বেড়ে যায় এবং শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে। যদিও এই ঘটনা ভারত থেকে বহু দূরে ঘটে, তবুও এর প্রভাব ভারতের আবহাওয়ার ওপর সুদূরপ্রসারী হয়।
দেরিতে কি দেরিতেই বিদায়?
আবহাওয়ার এই বদলের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, শীত কি দেরিতে আসছে বলে দেরিতেই বিদায় নেবে? শীতকাল কি আরও বেশ কয়েক মাস বেশি স্থায়ী হবে? লা নিনার প্রভাবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর বেশি শীত পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে। সাধারণত জানুয়ারির শেষের দিক থেকে শীত কমতে শুরু করে, কিন্তু লা নিনার প্রভাবে শীতের স্থায়ীত্ব বাড়তে পারে। তবে, আবহাওয়াবিদরা এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেননি।