দেবীর সাজে চাহিদা আকাশ ছোঁয়া, তবুও আক্ষেপ শিল্পীদের! পুজোর আগেই কেন কপালে ভাঁজ?

আর মাত্র কয়েক দিন বাকি দুর্গাপূজার। এই সময়েই চূড়ান্ত ব্যস্ততা থাকে প্রতিমার সাজ তৈরির কারিগরদের। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ব্লকের জজান গ্রামের মালাকার পরিবারও এখন দিন-রাত এক করে জরি-চুমকি আর শোলার কাজে ব্যস্ত। দেবী দুর্গার মুকুট থেকে শুরু করে নতুন নতুন সাজের চাহিদা দিন দিন বাড়লেও শিল্পীদের মুখে হাসি নেই।
জজান গ্রামের শিল্পী জর্নাদান মালাকার এবং তার পরিবার সাত পুরুষ ধরে এই ‘ডাকের সাজ’ তৈরি করে আসছে। তাদের তৈরি এই শোলার সাজ শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, জেলার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়। তাদের তৈরি প্রতিমার সাজের দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৮-১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, তবে কম দামের সাজের চাহিদা বেশি।
কিন্তু শিল্পীরা আক্ষেপ করে জানান, কাজের তুলনায় বাজারে সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। বর্তমান বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও তাদের কাজের দাম বাড়েনি। ফলে কঠোর পরিশ্রম করেও তারা বেশি লাভবান হতে পারছেন না।
জর্নাদান মালাকারের মতো শিল্পীরা বংশ পরম্পরায় এই কাজ চালিয়ে গেলেও, আগামী প্রজন্ম এই পেশায় আসার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাদের মতে, কাজের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তরুণরা এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
দুর্গাপূজা ছাড়াও এই মালাকার পরিবার কালীপূজা, জগদ্ধাত্রী পূজা এবং সরস্বতী পূজার জন্যও ডাকের সাজ তৈরি করে। তবে দুর্গাপূজার সময় দেবীকে সাজাতে তাদের কাজের চাহিদা তুঙ্গে থাকে।