দেড় কিলোমিটার হেঁটে ঘট আনেন রাজা, ১২০০ বছরের পুরোনো এই পুজোতেই জন্ম হয়েছিল ছৌ নৃত্যের

পুরুলিয়ার দুর্গম পাহাড় আর জঙ্গলে ঘেরা এক প্রান্তে লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন ইতিহাস। ঝালদার রাজা হেঁসলা গ্রামের এই রাজবাড়ি আজও সাক্ষী হয়ে আছে প্রায় ১২০০ বছরের পুরোনো এক দুর্গাপুজোর। এককালে এই রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন রাজপুত রাজা দিগ্বিজয় প্রতাপ সিংহদেও, আর তাঁর হাতেই শুরু হয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী পুজো।
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই রাজবাড়ির পুজোয় এখনও কিছু প্রথা মেনে চলা হয় যা অবাক করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রীতিটি হলো, দেবী দুর্গার ঘট আনার জন্য রাজবাড়ির সদস্যরা এখনও দেড় কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি হেঁসলা নদী পর্যন্ত হেঁটে যান। একসময় রাজা নিজে ঢাকের তালে তালে বন্দুকের গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঘট আনতে যেতেন, এখন তার বদলে শব্দবাজি ব্যবহার করা হয়। কথিত আছে, এই রাজপরিবারের পুজো থেকেই বাংলার ঐতিহ্যবাহী ছৌ নৃত্যের উৎপত্তি হয়েছিল।
রাজত্ব নেই, আছে শুধু রাজবাড়ির জৌলুস
আজ রাজতন্ত্র নেই, কিন্তু আছে সেই রাজপ্রাসাদ, কাছারিবাড়ি, ঠাকুরদালান এবং পুকুর। রাজপরিবারের বর্তমান উত্তরসূরী কুন্দপনারায়ণ সিংহদেও জানান, রাজতন্ত্রের অবসান হলেও তাঁরা পূর্বপুরুষদের তৈরি করা নিয়ম-রীতি মেনেই এই পুজোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও এই পুজোকে নিজেদের ঐতিহ্য বলে মনে করেন। তাদের কাছে এটি গ্রামের একমাত্র পুজো, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ভিড় করেন।
পুরুলিয়ার প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলোর মধ্যে হেঁসলা রাজবাড়ির এই পুজো অন্যতম। স্থানীয়দের পাশাপাশি অনেক পর্যটকদের কাছেও এটি বিশেষ আকর্ষণ। যারা দুর্গাপুজোর সময় পুরুলিয়া ঘুরতে যান, তারা এই ঐতিহাসিক পুজো দেখতে একবার হলেও হেঁসলা রাজবাড়িতে ঢুঁ মারেন। এই পুজো একদিকে যেমন ধর্মীয় বিশ্বাসকে ধারণ করে, তেমনি অন্যদিকে বাংলার এক প্রাচীন সাংস্কৃতিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।