চিপসেটের মারপ্যাচে ফের বাড়ছে ফোনের দাম! স্যামসাং-রিয়েলমি থেকে ওয়ানপ্লাস—জেলায় জেলায় কোপ পকেটে?

মেমোরি ও চিপসেটের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচে মারাত্মক চাপে পড়েছেন গ্যাজেট নির্মাতারা। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে। রিয়েলমি, অপো, ভিভো, স্যামসাং এবং ওয়ানপ্লাসের মতো প্রথম সারির ব্র্যান্ডগুলি তাদের বেশ কিছু জনপ্রিয় মডেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারের এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে যেখানে গ্রাহকরা খরচ করার ক্ষেত্রে অনেকটাই রক্ষণশীল, ঠিক তখনই এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ‘ইন্ডিয়া উইকলি স্মার্টফোন সেলআউট ট্র্যাকার’ জানাচ্ছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ কিছুটা কম ছিল। যদিও মাঝেমধ্যে অনলাইন সেলের সুবাদে কিছু বিক্রি বাড়লেও সামগ্রিক বাজারে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

কোন ব্র্যান্ডে কত বাড়ল দাম?

রিয়েলমি: গত ১৮ আগস্ট থেকে তাদের একাধিক মডেলের দাম ১,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

অপো: রেনো এবং এ-সিরিজের কিছু নির্দিষ্ট ফোনের দাম ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ভিভো: বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে বেশ কিছু মডেলের দাম ৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্যামসাং: এস, এম এবং এফ সিরিজের নির্দিষ্ট কিছু হ্যান্ডসেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে গ্যালাক্সি এস২৫-এর একটি ভ্যারিয়েন্টের দাম একলাফে প্রায় ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ওয়ানপ্লাস: তাদের নির্দিষ্ট কিছু স্মার্টফোনের দাম ২,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ওয়ানপ্লাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত মেমরির ক্রমবর্ধমান দামই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ।

আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা
আইডিসি এশিয়া প্যাসিফিকের ডিভাইস রিসার্চ বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ ম্যানেজার উপাসনা জোশীর মতে, মেমরির ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের শেষ নাগাদ স্মার্টফোনের গড় মূল্য প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে মেমোরি ও যন্ত্রাংশের দাম আরও চড়লে স্মার্টফোনের দাম একলাফে আরও ৭ থেকে ১০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা এখন বিশেষ ছাড় বা প্রমোশনাল অফারের অপেক্ষায় থাকছেন। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশা, আসন্ন উৎসবের মরশুমে সংস্থাগুলি নতুন অফার ও ইএমআই সুবিধার ঘোষণা করলে বাজারে বিক্রি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সার্বিকভাবে চলতি বছর ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারের প্রবৃদ্ধি অনেকটাই মন্থর থাকতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।