দুর্নীতির জালে কাউন্সিলর গোপাল দাস, উপভোক্তাদের থেকে টাকা হাতিয়ে শ্রীঘরে বসিরহাটের দাপুটে নেতা

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের থেকে কাটমানি আদায় এবং উন্নয়নের অর্থে ব্যাপক তছরূপের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল দাস। শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ তাঁকে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই গোপাল দাসের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ছিল। অসহায় গরিব মানুষদের সরকারি ঘর পাওয়ার পর প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই কাউন্সিলর জোর করে সেই টাকা আদায় করতেন বলে অভিযোগ। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই পরবর্তী কিস্তির টাকা আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হতো। শুধুমাত্র আবাস যোজনা নয়, ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট নির্মাণ-সহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এই লাগামহীন দুর্নীতির জেরে গত দু’দিন ধরে উত্তাল ছিল এলাকা। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উপভোক্তাদের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর আর্থিক প্রতারণার অকাট্য প্রমাণ মেলার পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ধৃতকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহেও সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাতের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বসিরহাটের দুর্নীতির জাল আরও বিস্তৃত হয়েছে। বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের শিকরা কুলিন গ্রাম পঞ্চায়েতের জাফরপুর গ্রামে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণ সামগ্রী চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, তৎকালীন ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই অঞ্চলের তৃণমূল প্রধান নাজমুন নাহার এবং তাঁর স্বামী তথা দাপুটে নেতা সানিয়াস মণ্ডলের দিকে আঙুল তুলেছে এলাকাবাসী। তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্বজনপোষণ এবং আবাস যোজনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিযুক্তদের বাড়ি ও সংলগ্ন বাগানে তল্লাশি শুরু করেছে। একের পর এক এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy