একসময় দেশজুড়ে আন্না হাজারের অনশনের ফলে দুর্নীতিদমনের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে লোকপালের সূচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই লোকপাল এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার বদলে আধিকারিকদের বিলাসবহুল গাড়ি কেনার আবদারের জন্য খবরের শিরোনামে। জানা গিয়েছে, লোকপালের চেয়ারপার্সন-সহ মোট সাতজন আধিকারিক নিজেদের ব্যবহারের জন্য ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যের বিএমডাব্লিউ (BMW) সেডান গাড়ি কেনার আর্জি জানিয়েছেন।
প্রকাশ্যে টেন্ডার, দাবি ৭০ লক্ষের গাড়ি
লোকপালের চেয়ারপার্সন, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অজয় মানিকরাও খানউইলকর-সহ মোট সাতজন আধিকারিকের জন্য এই বিলাসবহুল গাড়ি কেনার আবদার জানানো হয়েছে। লোকপালের বসন্তকুঞ্জের কার্যালয়ের জন্য সাতটি BMW 3 সিরিজের Li গাড়ি চাওয়া হয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ভারতের লোকপাল স্বনামধন্য সংস্থার কাছ থেকে BMW 3 সিরিজের Li গাড়ি সরবরাহের বরাত দিতে চাইছে।” এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকে লোকপাল কর্মী এবং গাড়ি চালকদের সাত দিন ধরে BMW চালানোর এবং গাড়ির বৈদ্যুতিন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণও দিতে হবে।
ক্ষুব্ধ প্রশান্ত ভূষণ ও যুব কংগ্রেস
এই বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমনের সর্বোচ্চ সংস্থার আধিকারিকদের এত বিলাসবহুল গাড়ির প্রয়োজন কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।
বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “লোকপাল নামক প্রতিষ্ঠানটিকে এমনিতেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। এখন আবার নিজেদের জন্য ৭০ লক্ষ টাকার BMW কিনছেন। এঁরা কাজ নিয়ে ভাবিত নন, বিলাসিতা পেলেই হল।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে যুব কংগ্রেসও। তারা মন্তব্য করেছে, “যে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে রয়েছে, তাদের জন্য বিলাসবহুল বিদেশি গাড়ি কিনছেই বা কেন সরকার?” সাধারণ মানুষের অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, আধিকারিকরা সাদাসিধে বলেই রোলস রয়েস না কিনে ৭০ লক্ষের BMW কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও এই বিতর্কে লোকপালের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।