মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজ্য পেতে চলেছে একগুচ্ছ নতুন জেলা এবং এক অভিনব স্বাস্থ্য পরিষেবা। ‘দুয়ারে সরকার’ এবং ‘দুয়ারে রেশন’-এর ব্যাপক সাফল্যের পর এবার সরাসরি মানুষের বাড়িতে চিকিৎসার সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী। শুক্রবার এক প্রশাসনিক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন তাঁর সরকারের পাখির চোখ।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও নতুন জেলা গঠন এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে এক বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ৭টি নতুন জেলা তৈরি করেছি। তবে এখানেই শেষ নয়। আগামী দিনে আরও ৭ থেকে ১০টি নতুন জেলা গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।” সরকারের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনের নজরদারি আরও নিবিড় করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি সহজতর করা। ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে প্রশাসনিক কাজকে আরও দ্রুত গতির করার লক্ষ্যেই এই জেলা বিভাজন বলে মনে করা হচ্ছে।
কী এই ‘দুয়ারে চিকিৎসা’? স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে বিনা চিকিৎসায় না থাকেন, তার জন্য মেডিকেল টিম সরাসরি মানুষের ঘরে পৌঁছাবে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ এবং যারা হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন না, তাদের জন্য এই প্রকল্প আশীর্বাদ হতে চলেছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজও এই প্রকল্পের আওতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনীতি ও উন্নয়নের মেলবন্ধন রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচন বা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মমতার এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বিরোধীদের চাপে ফেলবে। একদিকে যেমন নতুন জেলা গঠনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে মানুষের ঘরের অন্দরে ঢুকিয়ে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো সাধারণ মানুষের মন জয়ের চেষ্টায় অনড়।