দুধ বিক্রেতার মেয়ের অবিশ্বাস্য রূপকথা! অভাবকে হারিয়ে কীভাবে দেশের জন্য সোনা আনলেন অঙ্কিতা ভকত?

২০২৬ এশিয়ান গেমসে মহিলাদের রিকার্ভ দলীয় বিভাগে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জিতেছে ভারত। কুমকুম মোহোদ ও কীর্তি শর্মার সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি বেঁধে দেশের এই মেগা জয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তারকা তীরন্দাজ অঙ্কিতা ভকত। তাঁর এই স্বর্ণপদক জয় কেবল একটি খেলার ট্রফি নয়, বরং এটি এক অদম্য লড়াই এবং চরম সংগ্রামের এক রূপকথার গল্প।

অঙ্কিতার এই সাফল্য অর্জনের পথটি মোটেও সহজ ছিল না। একসময় তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, তাঁর পক্ষে একটি পেশাদার ধনুক কেনার কথা ভাবাও অসম্ভব ছিল। তাঁর বাবা পেশায় একজন সাধারণ দুধ বিক্রেতা ছিলেন, যাঁদের পক্ষে এই ব্যয়বহুল খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা সাধ্যের বাইরে ছিল। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে অঙ্কিতাকে ঐতিহ্যবাহী কাঠের ধনুক বা ‘ইন্ডিয়ান রাউন্ড’ ব্যবহার করেই অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে তিনি নিজের কোনো সরঞ্জাম না থাকায় সতীর্থ ও অন্যদের কাছ থেকে ধনুক ধার করেই ঘাম ঝরিয়েছেন অনুশীলনে।

অবশেষে তাঁর এই দুর্দিনে আশার আলো হয়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর খালা, যিনি একটি ভালো ধনুক জোগাড় করতে তাঁকে সাহায্য করেন। এরপর ২০১৪ সালে জীবনের মোড় ঘুরে যায়। কলকাতার সার্কাস ময়দানে মাত্র ১০ বছর বয়সে একটি স্থানীয় তীরন্দাজ প্রতিযোগিতা দেখতে গিয়েই এই খেলার প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন অঙ্কিতা। সেই ভালোলাগা থেকেই তিনি পা রাখেন জামশেদপুরের বিখ্যাত টাটা আর্চারি একাডেমিতে। সেখানে ভর্তি হওয়ার পরই তিনি জীবনের প্রথম নিজস্ব প্রফেশনাল ধনুকটি হাতে পান, যা তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথকে প্রশস্ত করে। এর আগে বিগত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হলেও, এবারে সোনা জিতে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে কঠোর পরিশ্রম এবং জেদের কাছে সমস্ত প্রতিকূলতাই হার মানতে বাধ্য।