দুই টাকা কম দিলেই এক মাসের বেশি ভ্যালিডিটি! বেসরকারি সংস্থাকে এক ধাক্কায় কুপোকাত করল বিএসএনএল!

দেশের বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলির রমরমা বাজারের মাঝে গ্রাহকদের জন্য ফের এক দারুণ ও সাশ্রয়ী রিচার্জ প্ল্যান নিয়ে হাজির হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড বা বিএসএনএল (BSNL)। বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে টিকতে এবার মাত্র ১৯৭ টাকায় দীর্ঘ ৩৫ দিনের ভ্যালিডিটি প্যাক ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা। নামী বেসরকারি টেলিকম অপারেটর এয়ারটেল এবং জিওর ১৯৯ টাকার প্ল্যানের তুলনায় এই রিচার্জটি যেমন দামে দু’টাকা কম, তেমনই ভ্যালিডিটি ও সুবিধার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
বিএসএনএলের এই ১৯৭ টাকার বিশেষ প্রিপেইড প্ল্যানে গ্রাহকরা পেয়ে যাবেন মোট ৩৫ দিনের দীর্ঘ মেয়াদের ভ্যালিডিটি, যা এক মাসের সাধারণ ৩০ দিনের চক্রকেও ছাড়িয়ে যায়। এই প্ল্যানের আওতায় ব্যবহারকারীরা যেকোনো নেটওয়ার্কে কথা বলার জন্য মোট ৩০০ মিনিটের ফ্রি ভয়েস কলিংয়ের সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য ১০০টি করে ফ্রি এসএমএস পাঠানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। ডেটার ক্ষেত্রে সংস্থা দিচ্ছে আনলিমিটেড ইন্টারনেট সুবিধা। তবে এক্ষেত্রে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হাই-স্পিড ডেটা ব্যবহারের কোটা শেষ হয়ে গেলে ইন্টারনেটের স্পিড কমে ৪০ কেবিপিএস হয়ে যাবে, যা দিয়ে জরুরি কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, বেসরকারি টেলিকম জায়ান্ট জিও (JIO)-র ১৯৯ টাকার প্ল্যানটির দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে দৈনিক ১.৫ জিবি করে মোট ডেটা এবং আনলিমিটেড কলিংয়ের সুবিধা মিললেও এই প্যাকের মেয়াদ মাত্র ১৮ দিন। অর্থাৎ কম দিনের জন্য এই প্ল্যানটি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার দিক থেকে বিএসএনএল অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। ঠিক একইভাবে, এয়ারটেল (Airtel)-এর ১৯৯ টাকার প্ল্যানে প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা, আনলিমিটেড কলিং এবং ১০০টি এসএমএসের সুবিধা দেওয়া হলেও তার ভ্যালিডিটি থাকে মাত্র ২৮ দিন।
তুলনামূলকভাবে বিচার করলে দেখা যায়, এয়ারটেল বা জিও যেখানে ১৯০ থেকে ২০০ টাকার কাছাকাছি খরচে মাত্র ১৮ থেকে ২৮ দিনের বৈধতা দিচ্ছে, সেখানে বিএসএনএল মাত্র ১৯৭ টাকায় পুরো ৩৫ দিনের ভ্যালিডিটি দিয়ে মধ্যবিত্তের পকেটের কথা পুরোপুরি মাথায় রেখেছে। অতিরিক্ত খরচ বাঁচিয়ে যারা দীর্ঘ সময় সিম সচল রাখতে চান এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট ও কলিংয়ের সুবিধা উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য বিএসএনএলের এই ১৯৭ টাকার প্ল্যানটি বর্তমান বাজারে অন্যতম সেরা বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে।