দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান! বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পে মিলল কলকাতা পুরসভার সবুজ সঙ্কেত, ৪২ মাসেই ছুটবে ট্রেন

দীর্ঘ ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা আইনি-প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প। কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে চলেছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। এই মেগা প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ করতে মেট্রো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগামী ৪২ মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। এই রুট চালু হলে উত্তর কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পাবে ব্যস্ততম বিটি রোড (B.T. Road)।

এই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের পথ সবচেয়ে বেশি আটকে রেখেছিল বিটি রোডের ভূগর্ভস্থ জলের পাইপলাইন সংক্রান্ত জটিলতা। রাস্তার নিচে থাকা ছয়টি বিশাল জলের পাইপের মধ্যে ৪৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের পাইপটি নিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষ মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। কারণ ওই নির্দিষ্ট পাইপলাইন দিয়েই প্রতিদিন পলতা জলপ্রকল্প থেকে বৃহত্তর কলকাতায় প্রায় ২০ গ্যালন পানীয় জল সরবরাহ করা হতো। পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে কলকাতার একাংশে ভয়াবহ জলসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই প্রযুক্তিগত সমস্যার সুরাহা করতে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়্গপুরকে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আইআইটি বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক হয়েছে যে, পুরনো পাইপটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে তার বিকল্প হিসেবে একটি নতুন ৭২ মিটার ব্যাসার্ধের পাইপলাইন তৈরি করে দেওয়া হবে। এর ফলে পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত না করেই মেট্রোর পিলার ও ট্র্যাক তৈরির কাজ নিরাপদে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

প্রায় ১২.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রস্তাবিত মেট্রো রুটে মোট ১০টি আধুনিক স্টেশন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্টেশনগুলির মধ্যে রয়েছে—কামারহাটি, আগরপাড়া, সোদপুর, পানিহাটি, সুভাষনগর, খড়দা, টাটা গেট, টিটাগড়, তালপুকুর এবং ব্যারাকপুর। মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্তা এই প্রসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, জলের পাইপ সরিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিকল্প উপায়ে জল সরবরাহ বজায় রেখে কাজ করাটাই ছিল তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজ্য সরকার এবং কলকাতা পুরসভার আন্তরিক সহযোগিতায় এবং আইআইটি খড়্গপুরের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্যেই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মেট্রো করিডর চালু হলে উত্তর ২৪ পরগনার পরিবহন ব্যবস্থার মান সম্পূর্ণ বদলে যাবে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি এই ট্রানজিট করিডর বরাবর আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।