মানবাধিকার লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর দাবি UNCERD-এর! ভারতের তীব্র প্রতিবাদের মুখে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট ঘিরে কূটনৈতিক ঝড়

রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (UNCERD)-এর সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র কূটনৈতিক সংঘাত ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ভারতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম, তফশিলি জাতি, উপজাতি এবং রোহিঙ্গা জনজাতিদের উপর আক্রমণ ও নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরেই নয়া দিল্লির তরফে অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি দল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে রিপোর্টটিকে কড়াভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত ওই রিপোর্টে UNCERD উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, ভারতে বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিশেষ করে দলিত, আদিবাসী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যে ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে চিন্তিত। সংস্থায় প্রকাশিত প্রেস নোটে দাবি করা হয়েছে যে, দেশে ঘৃণাভাষণ (Hate Speech) ও ঘৃণাজনিত অপরাধের মাত্রা অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ওই কমিটি।

তবে আন্তর্জাতিক এই সংস্থার সমস্ত দাবিকে শুরু থেকেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত সরকার। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে আলোচনার সময় ভারতের প্রতিনিধি দেশের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক সুরক্ষা, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, বহুত্ববাদ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারি স্তরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধিদল পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, UNCERD-এর এই রিপোর্টটি সম্পূর্ণ প্রমাণহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

কমিটির রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির একাংশের মাধ্যমে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং অ-নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এমনকি বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্বিচারে দীর্ঘমেয়াদী আটক এবং নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ নতুন কিছু নয়। এর আগে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থাও এই ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। সম্প্রতি মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক একটি কমিটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর বাতিলের দাবি তোলায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটির এই সাম্প্রতিক রিপোর্ট এবং নয়াদিল্লির তরফ থেকে তার কড়া প্রতিবাদের জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির নজরদারির সংঘাত আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty