দীপাবলি (Diwali) উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগপূর্ণ খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। চিঠিতে তিনি একদিকে যেমন দেশের সাংস্কৃতিক বিজয় তুলে ধরেছেন, তেমনই সরকারের সাফল্য, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের কর্তব্যের ওপর জোর দিয়েছেন।
রাম, অযোধ্যা ও ‘অপারেশন সিঁদুর’
চিঠির শুরুতেই মোদী দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে উল্লেখ করেন, “অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পর এটি দ্বিতীয় দীপাবলি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা দেন ভগবান রাম।” সেই সাহসেরই প্রতিফলন হিসেবে তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, ভারত সে সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছে।
মাওবাদ দমনে সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী এ বছরের দীপাবলির একটি বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এখন দেশের বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দীপাবলি উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে এক সময় মাওবাদীরা আধিপত্য বিস্তার করেছিল। আমরা সফলভাবে মাওবাদকে মূল থেকে নির্মূল করতে পেরেছি।” তাঁর দাবি, অনেকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তির পথে ফিরে এসে সংবিধানের প্রতি আস্থা রেখেছেন— এটা গোটা জাতির এক বিশাল জয়।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিকের কর্তব্য
অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে মোদী কেন্দ্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগ ‘জিএসটি সাশ্রয় উৎসব’-এর উল্লেখ করে দাবি করেন, এই উৎসবের মাধ্যমে দেশবাসী হাজার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত “স্থিতিশীল ও সংবেদনশীল অর্থনীতি” বজায় রেখেছে এবং দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হওয়ার পথে রয়েছে।
দেশের উন্নয়নযাত্রায় জনগণের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারতের পথে প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য— দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া।” তিনি দেশীয় পণ্য কেনার অভ্যাস, স্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দেওয়া এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। চিঠির শেষে মোদী ঐক্য ও গর্ব বজায় রেখে দীপাবলির আলোকে নতুন ভারতের আলোকবর্তিকা করার আহ্বান জানান।