জনাকীর্ণ দীঘা বা মন্দারমণি যখন পর্যটকদের ভিড়ে হাঁসফাঁস করছে, তখন পূর্ব মেদিনীপুরের এক নিভৃত কোণে শান্ত সমুদ্রের ঢেউ আপনার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। নাম তার বাঁকিপুট। যারা কোলাহলমুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির শুদ্ধতা অনুভব করতে চান, তাঁদের জন্য এটি এক আদর্শ গন্তব্য। এখানে নেই কোনো কৃত্রিমতা, নেই হোটেলের জাঁকজমক বা মাইকের শোরগোল। আছে শুধু ঝাউবনের শনশন শব্দ আর সমুদ্রের অবিরাম গর্জন।
বাঁকিপুটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর আদিগন্ত বিস্তৃত সৈকত এবং সেখানে লাল কাঁকড়াদের অবাধ বিচরণ। মাইলের পর মাইল বালুকাবেলায় লাল কাঁকড়ারা যখন আলপনা আঁকে, তখন মনে হয় যেন সমুদ্রের তীরে কোনো রক্তিম কার্পেট বিছিয়ে রাখা হয়েছে। মানুষের পায়ের আওয়াজ পেলেই তারা মুহূর্তের মধ্যে গর্তে লুকিয়ে পড়ে, যা এক অদ্ভুত দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এছাড়াও, এখানকার ঝাউবনের নির্জনতা এক রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে বসে আপনি অনায়াসেই কাটিয়ে দিতে পারেন কয়েক ঘণ্টা।
এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ হলো নিকটস্থ পেটুয়াঘাট মৎস্য বন্দর। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক এই মৎস্য বন্দরে ট্রলারের আনাগোনা এবং মাছ ধরার ব্যস্ততা দেখার মতো। এছাড়াও কাছেই রয়েছে কপালকুণ্ডলা মন্দির এবং দড়িয়াপুর লাইটহাউস। লাইটহাউসের চূড়ায় উঠে যখন বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি আর সবুজের সমারোহ দেখা যায়, তখন সেই দৃশ্য ভোলার নয়।
যাতায়াতের জন্য দিঘা রুটের যেকোনো ট্রেনে চড়ে নামতে হবে কন্টাই (কাঁথি) স্টেশনে। সেখান থেকে টোটো বা অটোতে চড়ে অনায়াসেই পৌঁছে যাওয়া যায় বাঁকিপুট। থাকার জন্য এখানে হাতেগোনা কিছু রিসোর্ট ও হোমস্টে রয়েছে, যা আপনাকে গ্রামীণ আতিথেয়তার স্বাদ দেবে। শীতকালীন পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা এবং শান্ত বিকেলের সূর্যাস্ত দেখার জন্য এটিই শ্রেষ্ঠ সময়। আপনি যদি একঘেয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির নিস্তব্ধতার মধ্যে হারিয়ে যেতে চান, তবে আগামী উইকএন্ডেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন বাঁকিপুটের উদ্দেশ্যে।