দিল্লি সরকারের মাস্টারস্ট্রোক! ২১ থেকে ৬০ বছরের মহিলারা প্রতি মাসে পাবেন সরাসরি আর্থিক সাহায্য, জানুন কারা যোগ্য

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অবশেষে ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’-কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিল দিল্লি মন্ত্রিসভা। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় দিল্লির ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসেই নিয়মিতভাবে ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করবেন। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে রাজধানী অঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১লা আগস্ট থেকেই একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এই প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য রয়েছে পবিত্র রক্ষা বন্ধন উৎসবের শুভক্ষণেই সমস্ত যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ পৌঁছে দেওয়া। তবে এই জনমুখী প্রকল্পে কিছু নির্দিষ্ট শর্তও রাখা হয়েছে। যে সমস্ত মহিলাদের তিনটি বা তার বেশি জীবিত সন্তান রয়েছে, তারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। এই নির্দিষ্ট এবং কঠোর শর্তের কারণে দিল্লির সর্বনিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর প্রায় ১৫ শতাংশ মহিলা এই আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। দিল্লি মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত এই প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য কার্যকর করা হয়েছে, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সার্বিক পর্যালোচনা সাপেক্ষে এর সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মূল যোগ্যতার শর্তাবলী অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সুবিধাভোগী মহিলাকে অবশ্যই ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সসীমার মধ্যে হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারী পরিবারের বার্ষিক আয় কোনোক্রমেই ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট পরিবারের বার্ষিক বিদ্যুৎ খরচ ২,৪০০ ইউনিটের বেশি হতে পারবে না, যা প্রকৃত ও প্রান্তিক দরিদ্রদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে একটি কঠোর অযোগ্যতার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। যে সমস্ত পরিবারের কোনো সদস্য আয়কর প্রদান করেন কিংবা নিয়মিত জিএসটি রিটার্ন দাখিল করেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থাকবেন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি কেন্দ্র সরকার, রাজ্য সরকার, কোনো সরকারি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরে কর্মরত থাকেন, তবে সেই পরিবারও এই সুবিধা পাবে না। এছাড়াও যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্যরা ইতিমধ্যে অন্য কোনো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্প বা মাসিক পেনশনের সুবিধা ভোগ করছেন, সেই পরিবারের নারীরাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন। পাশাপাশি, যে সমস্ত পরিবারের চার চাকার মোটর গাড়ি রয়েছে কিংবা যাদের পরিবারের কোনো মহিলার বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে, তারা এই প্রকল্পের অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।
প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী দিক হলো এর অর্থপ্রদান পদ্ধতি, যেখানে সুবিধাভোগীরা সরাসরি কোনো নগদ টাকা তুলতে পারবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ বিতরণের জন্য দুটি অভিনব বিকল্প রাখা হয়েছে। প্রথম বিকল্প অনুযায়ী, প্রতি মাসের ২৫০০ টাকার মধ্যে ১,৫০০ টাকা একটি রিকারিং ডিপোজিট (RD) বা ফিক্সড ডিপোজিট (FD) অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং বাকি ১,০০০ টাকা সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC) বা ই-রুপি ওয়ালেটে জমা করা হবে। এই ডিজিটাল ওয়ালেটটি শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট কিছু পণ্য বা পরিষেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে, সম্পূর্ণ ২৫০০ টাকার পরিমাণটিই সরাসরি আরডি বা এফডি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় হিসেবে পাওয়া যাবে। উভয় বিকল্পের ক্ষেত্রেই এটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, সুবিধাভোগী মহিলারা সরাসরি কোনো ক্যাশ টাকা বা নগদ তুলত পারবেন না, যা নারী empowerment এবং পারিবারিক সঞ্চয় বৃদ্ধিতে এক সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।