দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করল পাকিস্তান। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার অত্যাধুনিক গাইডেড রকেট সিস্টেম ‘ফাতাহ-২’ (Fatah-II)-এর সফল পরীক্ষা চালাল পাক সেনা। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রচার শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (ISPR) এক বিবৃতিতে এই পরীক্ষার খবর নিশ্চিত করেছে।
শক্তির আস্ফালন ও ভারতের উদ্বেগ: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির আওতার মধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে শিমলা এবং উত্তর ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর চলে আসছে। পাকিস্তানের দাবি, ‘ফাতাহ-২’ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম এবং এটি আধুনিক যে কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে (Missile Defense System) ফাঁকি দিতে পারে।
কেন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি আলাদা?
উন্নত প্রযুক্তি: এটি স্টেট-অফ-দ্য-আর্ট নেভিগেশন সিস্টেম এবং ইউনিক ট্র্যাজেক্টরি ফিচারে সজ্জিত।
লক্ষ্যভেদ: অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এই গাইডেড রকেট।
কৌশলগত গুরুত্ব: পাকিস্তানের ‘আর্মি রকেট ফোর্সেস’-এর অধীনে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা তাদের প্রচলিত সমর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
পাক সেনার বক্তব্য: আইএসপিআর জানিয়েছে, এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্যারামিটার যাচাই করা। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সাফল্যের জন্য বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই পরীক্ষাকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন।
সীমান্তে টানটান উত্তেজনা: গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতার আবহে এই ৪০০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে দিল্লি সংলগ্ন এলাকা এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে থাকায় ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় এস-৪০০ (S-400) বা সমতুল্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।





