রাজধানীর বুকে দাঁড়িয়ে ফের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করে দিলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় একাই লড়বে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে একমত হলেও, বাংলার মাটিতে জোটের কোনো সম্ভাবনা যে নেই, তা আজ সাফ করে দিলেন মমতা।
গতকালই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা। আজ তিনি কমিশনের খাতায় ‘মৃত’ বলে ঘোষিত হওয়া প্রায় ৫০ জন ভোটারকে সশরীরে দিল্লিতে হাজির করেন। ওই ভোটাররা জীবিত হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে, তাই নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। বঙ্গভবনে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি তীব্র আক্রমণ শানান মোদী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।
মমতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “শুধুমাত্র বাংলাকেই কেন নিশানা করা হচ্ছে? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে কেন এসআইআর (SIR) হচ্ছে না?” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলায় ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছেন। বিজেপি কি চায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাক? আমরা সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতির জন্য কাজ করি। আমরা লাল-বাল-পাল এবং ভগৎ সিংকে সম্মান করি। গান্ধীজি স্বাধীনতার সময় বাংলায় শান্তি বজায় রাখতে গিয়েছিলেন। সেই বাংলার গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে বা গণতান্ত্রিক পথে তৃণমূলের সঙ্গে লড়তে পারছে না বলেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র করছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মমতার এই ‘একলা চলো’ বার্তা এবং কমিশনের বিরুদ্ধে ‘মৃত বনাম জীবিত’ ভোটারদের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।