দিল্লি থেকে চাপ আসছে!’ রাজ্যপালের ইস্তফা প্রসঙ্গে শুভেন্দু নয়, অধীর চৌধুরীর মন্তব্যে তোলপাড় বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রাজভবন এবং নবান্নের সংঘাত নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সেই আগুনে ঘি ঢাললেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ বা ইস্তফা দেওয়া নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি। অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি সত্যিই বাংলার রাজভবনে নতুন কোনো মুখ আসতে চলেছে?

অধীরের বিস্ফোরক দাবি: একটি সাংবাদিক সম্মেলনে অধীর চৌধুরী সরাসরি দাবি করেন যে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের ওপর দিল্লি থেকে প্রবল চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার কাছে খবর আছে, রাজ্যপালকে হয়তো ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হতে পারে অথবা তাঁকে অন্য কোনো রাজ্যে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর কাজে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়।” অধীরের মতে, রাজ্যপাল মাঝে মাঝে নবান্নের প্রতি যে ‘নরম মনোভাব’ দেখান, তা দিল্লির পছন্দ হচ্ছে না।

তৃণমূল ও বিজেপির অবস্থান: অধীর চৌধুরীর এই দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং রাজভবনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি নেতারা এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যপাল সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই কাজ করছেন এবং ইস্তফার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

প্রেক্ষাপট: গত কয়েক মাসে একাধিক ইস্যুতে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপড়েন দেখা গেছে। কখনও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগ, আবার কখনও রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজভবন কড়া অবস্থান নিয়েছে। তবে অধীর চৌধুরীর দাবি যদি সত্যি হয়, তবে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজ্যপাল নিজে অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অধীর চৌধুরীর এই ‘বিস্ফোরণ’ যে আগামী কয়েকদিন বঙ্গ রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy