দিল্লির ছাদে বিপ্লব! বিনা খরচে ৩ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল বসানোর বিরাট ঘোষণা সরকারের!

সৌরশক্তিকে উৎসাহিত করতে দিল্লি সরকার একটি বড় এবং যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দিল্লি সৌরশক্তি নীতি-২০২৩-এর নতুন সংস্করণ তথা দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ করেছেন। এই নতুন নীতি অনুসারে, যে সমস্ত গৃহস্থালি গ্রাহক ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গড়ে ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তাঁরা কোনো প্রাথমিক বিনিয়োগ ছাড়াই ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে পারবেন। এই নীতির অধীনে, যাঁরা ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁরা সোলার সিস্টেম স্থাপনের পরেও সমস্ত ভর্তুকির সুবিধা পেতে থাকবেন এবং সাশ্রয় করা বিদ্যুতের উপর একটি শক্তি-সাশ্রয়ী বোনাসও পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার দিল্লি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন।
দিল্লির বিদ্যুৎমন্ত্রী আশীষ সুদ জানান যে এই নীতিটি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘পিএম সূর্য ঘর: বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্রকল্প’-কে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করবে। সাধারণ পরিবারগুলি এখন কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সৌর ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে। এর ফলে মানুষ শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারই করবে না, বরং নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু বিদ্যুতের বিল কমানো নয়, বরং দিল্লির প্রতিটি বাড়িকে একেকটি মিনি বিদ্যুৎ জেনারেটরে রূপান্তরিত করা। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে একটি উন্নত ভারতের পথ একটি উন্নত দিল্লির মধ্য দিয়েই যায়, এবং এই ভাবনা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার অধীনে, সৌর ব্যবস্থা স্থাপনের প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা সাপেক্ষে, ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত গড় মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যোগ্য গৃহস্থ গ্রাহকদের কোনো অগ্রিম খরচ ছাড়াই ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত রুফটপ সোলার সিস্টেম সরবরাহ করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ৭৮,০০০ টাকার ভর্তুকির পাশাপাশি দিল্লি সরকার অতিরিক্ত ৭৮,০০০ টাকার মূলধনী ভর্তুকি প্রদান করবে। এছাড়াও, দিল্লি সরকার অতিরিক্ত টপ-আপের মাধ্যমে ভর্তুকি এবং সোলার প্ল্যান্টের দরপত্রকৃত খরচের মধ্যকার পার্থক্যটুকুও সম্পূর্ণভাবে পূরণ করবে। আগে সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে গ্রাহকদের এককালীন অর্থ প্রদান করতে হতো, কিন্তু নতুন নীতিতে শুরুতেই আর্থিক সহায়তা প্রদানের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সরকার কর্তৃক স্থাপিত সোলার সিস্টেমটি বিক্রেতাকে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। এরপর গ্রাহকরা সিস্টেমটির সম্পূর্ণ ২৫ বছরের আয়ুষ্কাল জুড়ে ডিসকমের মাধ্যমে এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ প্রদান চালিয়ে যেতে পারবেন। যোগ্য গ্রাহকরা তাঁদের মাসিক বিদ্যুৎ বিলে নেট মিটারিংয়ের সুবিধাও পাবেন। দিল্লি সরকারের বিদ্যমান বিদ্যুৎ ভর্তুকি আগের মতোই চালু থাকবে। একটি ৩-কিলোওয়াট সোলার সিস্টেম প্রায় ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। যদি কোনো পরিবার ২০০ ইউনিট ব্যবহার করে, তবে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠিয়ে তাঁরা আয়ও করতে পারবেন। গ্রিডে পাঠানো বিদ্যুতের মূল্য ডিসকমের গড় বিদ্যুৎ ক্রয় খরচের ভিত্তিতে পরিশোধ করা হবে।
দিল্লি সরকার ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ২ লক্ষ ৩০ হাজার বাড়ির ছাদে সৌর ব্যবস্থা স্থাপনের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌর ক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লির সরকারি ভবনগুলিতেও সৌর ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত দিল্লিতে ১০,০৭৩টি সৌর ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। নেট মিটারিংয়ের সময়সীমা ৭৫ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ দিন করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক সৌর সিস্টেমের জন্য সমস্ত আবেদন ও নিবন্ধন ফি সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে। এই নীতি দিল্লিকে সবুজ শক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে।