জিএসটি ও ইউপিআইয়ে রেকর্ড ঝড়! ২০২৭-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কি অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে ভারতীয় অর্থনীতি?

২০২৭ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতীয় অর্থনীতি মিশ্র কিন্তু সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার লক্ষণ প্রদর্শন করেছে। উৎপাদন খাতের কিছুটা দুর্বল মনোভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির চাপ সত্ত্বেও দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগ, কর আদায় এবং ডিজিটাল লেনদেন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি সূচকগুলির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে মোট পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই লেনদেন প্রথমবারের মতো ২৪ বিলিয়ন জাদুকরী গণ্ডি অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি, বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থার গাড়ি বিক্রিতেও অসাধারণ প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে এই উজ্জ্বল ছবির উল্টো পিঠে রয়েছে কিছু উদ্বেগের কারণও। দুর্বল চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এইচএসবিসি ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) গত পাঁচ বছরের সর্বনিন্ম স্তর ৫২.৮-এ নেমে এসেছে, যা ইঙ্গিত করে যে কোম্পানিগুলো বর্তমানে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ডেলয়েট ইন্ডিয়ার পার্টনার মহেশ জয়সিংহ জানিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ জিএসটি আদায়ের এই শক্তিশালী ধারা সরকারের সাম্প্রতিক জিডিপি অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি ৭.৮ শতাংশ এবং নামমাত্র জিডিপি ১০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক প্রতিকূলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে ইউপিআই আগস্ট মাসে রেকর্ড ২৪.৫ বিলিয়ন লেনদেন সম্পন্ন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২২.৫ শতাংশ বেশি। পে নিয়ারবাই-এর সিইও আনন্দ কুমার বাজাজ উল্লেখ করেছেন যে, উৎসবের মরসুমের প্রাক্কালে ছোট শহর এবং গ্রামীণ বাজারগুলিতে খুচরা কেনাকাটা ও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের প্রবণতা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রসারে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। অন্যদিকে, গাড়ি বিক্রির বাজারেও গ্রাহকদের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ করা গেছে। মারুতি সুজুকির মোট বিক্রি ২১.৩ শতাংশ এবং মাহিন্দ্রার এসইউভি বিক্রি ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই-চাকার যান ও ট্রাক্টর বিক্রিতেও জোয়ার এসেছে। তবে কোল ইন্ডিয়ার উৎপাদন ৫.৮ শতাংশ হ্রাস পাওয়া এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলি শিল্প খাতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।