দিল্লির আকাশে কেন নামতে পারল না বিমান? ঘণ্টার পর ঘণ্টা চক্কর কেটে শেষে যা ঘটল…

এক চরম অনিশ্চয়তা এবং রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সাক্ষী থাকলেন ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের এক আন্তর্জাতিক উড়ানের যাত্রীরা। মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘ এবার সরাসরি প্রভাব ফেলল অসামরিক বিমান চলাচলের ওপর। জানা গিয়েছে, গন্তব্যের খুব কাছে পৌঁছেও যুদ্ধের কারণে আকাশসীমা রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝ আকাশে চক্কর কাটতে হয় বিমানটিকে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার খাতিরে অবতরণ না করেই দিল্লিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয় ইন্ডিগোর ওই বিমানটি।

সূত্রের খবর, তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ইন্ডিগোর এই বিশেষ বিমানটি। দীর্ঘ যাত্রার পর বিমানটি যখন গন্তব্যের কাছাকাছি, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরে একাধিক দেশের আকাশসীমা তড়িঘড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাইলটকে জানানো হয়, নির্ধারিত রুট দিয়ে অগ্রসর হওয়া এখন চূড়ান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এরপরই শুরু হয় এক চরম উৎকণ্ঠার মুহূর্ত।

বিমানের রাডার ট্র্যাকারে দেখা যায়, বিমানটি দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে চক্কর কাটছিল। জ্বালানি ফুরিয়ে আসার ভয় এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পাইলট এটিপি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু যুদ্ধের আবহে আকাশপথ খোলার কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়ায় বিমানটিকে পুনরায় দিল্লিতেই ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিমানে থাকা যাত্রীরা এই দীর্ঘ সময় ধরে চরম আতঙ্কে দিন কাটান। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, আকাশপথের এই বিভ্রাট কোনো বড় বিপদে পরিণত হতে পারে।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং যুদ্ধ কেবল ভূমিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা আকাশপথের সংযোগকেও পঙ্গু করে দিতে পারে। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাঁদের কাছে অগ্রাধিকার। যুদ্ধের কারণে যে রুট পরিবর্তন বা বিমান ফিরিয়ে আনতে হয়েছে, তার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। আপাতত যাত্রীদের বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy