রাজধানী দিল্লিতে বঙ্গভবনের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র ক্ষোভ এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগের পরেই কলকাতা থেকে তড়িঘড়ি উড়ে গেল রাজ্য পুলিশের ২২ সদস্যের একটি বিশেষ দল। সোমবার রাতেই এই ‘স্পেশাল ২২’ টিমকে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন ডিএসপি এবং একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক।
কেন এই পদক্ষেপ? দিল্লির হ্যাল রোডে অবস্থিত বঙ্গভবন ঘিরে দিল্লি পুলিশ ‘মস্তানি’ করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার সাধারণ মানুষ যারা দিল্লিতে নিজেদের অভাব-অভিযোগ জানাতে এসেছেন, তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এমনকি আদালতের অনুমতি ছাড়া তল্লাশির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সুরক্ষিত রাখতেই এই বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কারা আছেন এই বিশেষ দলে? ভবানী ভবন সূত্রে খবর, এই ২২ জনের দলে পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মী ছাড়াও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের (RAF) দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের সদস্যদের রাখা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের নবনিযুক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (DG) পীযূষ পাণ্ডে নিজেও পরিস্থিতি তদারকি করতে দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। মূলত বঙ্গভবনের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ক্লোজ প্রোটেকশন দেওয়াই হবে এই দলের কাজ।
আইন কী বলছে? দিল্লির মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় রাজ্য পুলিশের এই সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রাক্তন পুলিশকর্তারা জানাচ্ছেন, এতে আইনি কোনো বাধা নেই। প্রাক্তন এডিজি নজরুল ইসলামের মতে, বঙ্গভবনের অন্দরের নিরাপত্তা রাজ্য পুলিশ দিতেই পারে, তবে তারা দিল্লির সীমানায় কোনো এফআইআর বা তদন্ত করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রেও খবর, ভিভিআইপি নিরাপত্তার খাতিরে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও নিজেদের রাজ্যের পুলিশ নিয়ে আসেন। সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এটি বৈধ হলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বঙ্গভবনে রাজ্য পুলিশের এই উপস্থিতি কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের পারদকে আরও বাড়িয়ে দিল।