দিনের আলোয় নির্জন, সন্ধ্যা নামলেই ‘লাইভ শো’! ধাম কুড়িয়ার জঙ্গলে হাতিদের ‘অবাক জলপান’ দেখতে ভিড়

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা অঞ্চলের ধাম কুড়িয়ার জঙ্গল দিনের বেলায় শান্ত ও নির্জন থাকলেও, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। দূর থেকে শোনা যায় ভারি পদচারণা এবং ডাল ভাঙার শব্দ, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে হাতির দল এগিয়ে আসছে। জঙ্গলের মধ্যে পাশাপাশি থাকা দুটি বিশাল জলাধারই শীতকাল জুড়ে হাতিদের জল পানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যায় প্রকৃতির ‘লাইভ শো’
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে যখন এই বন্য প্রাণীরা ঠান্ডা পরিষ্কার জলে নেমে আসে, তখন চারপাশে তৈরি হয় এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ—যেন প্রকৃতির অবাক করা এক ‘লাইভ শো’! দূর থেকে দাঁড়িয়ে উৎসুক মানুষজনও অপেক্ষা করে সেই মুহূর্তের। জঙ্গলের আদমশুমারির সবচেয়ে শক্তিশালী এই প্রাণীরা যখন শুঁড় ভিজিয়ে জল পান করে, সেই দৃশ্য দেখতে শীতকালে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়।
হাতিরা কেবল জল পান করতেই আসে না, জল পানের আগে ও পরে তারা আশপাশের বনজ গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে খেতেও ভালোবাসে। বড় দাঁত বের করে ঝোপঝাড় টেনে খাবার নেওয়া, শুঁড় দিয়ে জল ছিটানো এবং ছোট হাতির দৌড়ঝাঁপ—প্রতিটি মুহূর্তই দর্শকদের জন্য বড় আকর্ষণ।
মানুষের নীরব সহাবস্থান
সন্ধ্যায় জলাশয়ের চারপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমলেও আশ্চর্যের বিষয়, কেউই হাতিদের উত্ত্যক্ত করে না। কেউ মোবাইল ক্যামেরা হাতে, কেউ দূরবীন চোখে অপেক্ষা করে এই অদ্ভুত মায়াবী দৃশ্য উপভোগ করার জন্য। দর্শনার্থীদের এই সচেতনতার প্রশংসা করেন এলাকাবাসী। কারণ হাতির দল শান্ত থাকলেই তাদের এই স্বাভাবিক আচরণ কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।
পরপর দুটি জলাশয়ে মন ভরে জল পান করার পর হাতির দল আবার ধীরে ধীরে ফিরে যায় গভীর জঙ্গলের ভেতরে। রাত নেমে এলে শুধুই শোনা যায় তাদের ভারি পদচারণা, তারপর মুহূর্তেই মিলিয়ে যায় অন্ধকারের ভেতর। এই হাতিদের জল পানের মুহূর্ত এখন এলাকার একটি পরিচিতি এবং মন মাতানো এক প্রাকৃতিক আকর্ষণ, যা দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরে থেকেও অনেকেই ছুটে আসেন।