২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিল কালীঘাটের বৈঠক। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব শুক্রবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছে যান। দীর্ঘ এক ঘণ্টার একান্ত বৈঠকের পর বাইরে এসে অখিলেশ যা বললেন, তাতে স্পষ্ট যে দিল্লির রাজনীতির ভরকেন্দ্র এখন কলকাতামুখী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে অখিলেশ সাফ জানিয়ে দিলেন, “বাংলায় দিদি একাই লড়বেন এবং একাই জিতবেন।”
মমতার ভূয়সী প্রশংসা ও বিজেপির হার: অখিলেশ যাদব সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন লড়াকু নেত্রী। গত নির্বাচনেও বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে তাঁকে হারানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাংলার মানুষ দিদির পাশেই ছিলেন। এবারও বিজেপি বাংলায় শূন্য পাবে। মমতা জি একাই এই লড়াই লড়ার ক্ষমতা রাখেন এবং তাঁর ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।” অখিলেশের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল, কারণ এটি কার্যত ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সমীকরণকে আরও মজবুত করল।
বিজেপি বিরোধী জোট ও আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: দুই নেতার আলোচনায় ২০২৬-এর কৌশলের পাশাপাশি ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সলতে পাকানো শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অখিলেশ এবং মমতার এই রসায়ন আসলে আঞ্চলিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ শক্তির পরিচয়। বিজেপি-র ‘ডাবল ইঞ্জিন’ তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অখিলেশ বলেন, “বিজেপি ভয় পেয়েছে। তারা এজেন্সি দিয়ে বিরোধীদের দমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু বাংলা ও উত্তরপ্রদেশ মিলে বিজেপিকে দেশছাড়া করবে।”
তৃণমূল শিবিরে খুশির হাওয়া: অখিলেশের এই সমর্থন তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের মনে নতুন অক্সিজেন যুগিয়েছে। বিশেষ করে যখন বাম-কংগ্রেস এবং বিজেপি—দুই পক্ষই তৃণমূলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, তখন জাতীয় স্তরের একজন নেতার এমন প্রকাশ্য সমর্থন মমতার পাল্লা ভারী করেছে। কালীঘাটের এই বৈঠক শুধু সৌজন্যমূলক ছিল না, বরং এটি ছিল দিল্লির তখত কাঁপানোর এক আগাম হুঙ্কার।